গাজীপুরে হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছেই। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৯০৩ জন রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪৮ জন এবং মারা গেছে ৩ শিশু।

রোববার (২৫ মে) হাসপাতালের পরিচালক, ডা. মোঃ আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৮ জন শিশু ও ৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ইউনিটে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৫২ জন রোগী।

এর আগে শনিবার (২৩ মে) দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বছর বয়সী শিশু মো. আব্দুল্লাহ মারা যায়। সে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকার বাসিন্দা ঝরণা আক্তারের ছেলে। এর আগেও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।

চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে কখনো আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও আবার নতুন করে রোগী বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালের পরিচালক, ডা. মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিশুদের জন্য আলাদা পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড চালু রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন, ডা. মোঃ মামুনুর রহমান জানান, পুরো জেলায় হামের পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করারও আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।