শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : মানিকগঞ্জে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো ফলন হলেও দাম নিয়ে হতাশায় ভুগছেন পেঁয়াজ চাষিরা। এ বছর পেঁয়াজের দাম আশানুরূপ না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ ১ হাজার থেকে ১১০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মানিকগঞ্জ জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৮ হাজার ৯৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। জেলার মধ্যে হরিরামপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।
শুক্রবার ও শনিবার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এবং শিবালয় উপজেলার টেপড়া পেঁয়াজের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজ চাষিরা জানান, উৎপাদন খরচ, শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশকের দাম বিবেচনায় এই মূল্য খুবই কম। নগদ অর্থের প্রয়োজনের কারণে অনেক কৃষক মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে সরাসরি বাজারে বিক্রি করছেন। এতে ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কম দামে পেঁয়াজ কিনে নিচ্ছেন। কৃষকদের দাবি, বাজারে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে তারা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতেন এবং আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে আরও উৎসাহিত হতেন।
ছয়ানি গালার পেঁয়াজ চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর আমি ৩ বিঘা জমিতে সাগা (মুড়ি কাটা) পেঁয়াজের চাষ করেছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছিল এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় বেশ লাভ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ বছর ঋণ নিয়ে ৭ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। কিন্তু এখন বাজারে যে দাম দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে ঋণের টাকা পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়বে। সরকার যদি অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ না করে, তাহলে আমাদের মতো চাষীদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।