আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা

শীতের সময়কাল কমে যাওয়া ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাবে সাতক্ষীরায় খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একসময় শীত এলেই গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির মৌসুমে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যেত। এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই বিরল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ২৩০ হেক্টর জমিতে এক লাখ ৮ হাজারের বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করা গেলে বছরে ২,০০০ থেকে ২,২০০ টন গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন নেমে এসেছে ৮০০ থেকে ৯০০ টনে প্রায় অর্ধেকে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আবহাওয়ার পরিবর্তনে শীতের সময়কাল কমেছে। এতে গাছিরা সময়মতো গাছ কাটতে পারছেন না, অনেকের আগ্রহও কমছে। ফলে উৎপাদন কমে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, সব গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করা গেলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলাতেও গুড় সরবরাহ সম্ভব হতো। এতে কৃষকদের আয় বাড়ত। এখন যে পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে, তা দিয়ে সীমিত চাহিদাই মেটানো যাচ্ছে। তালা উপজেলার নগরঘাটা এলাকার গাছি হাফিজুল ইসলাম বলেন, “আগে ১৫-১৬টি গাছে ১০-১২ হাঁড়ি রস পেতাম, এখন সেখানে ৩-৪ হাঁড়ি পাওয়া যায়। আগে গাছের গোড়ায় পানি জমত না, এখন জমে থাকে-এটাই বড় সমস্যা।”

নগরঘাটার বাসিন্দা সাইদুজ্জামান বলেন, আগে এলাকায় খেজুর গাছ বেশি ছিল, এখন কমে গেছে। অনেকেই গাছ কাটছেন না, আবার কোথাও গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে রসের সংকট তৈরি হয়েছে।

ইসলামকাটি গ্রামের মিলন বিশ্বাস বলেন, ছোটবেলায় খেজুর ও তাল গাছ কাটা, পাটকাঠির নল দিয়ে রস খাওয়ার দৃশ্য ছিল নিয়মিত। এখন তা দেখা যায় না।

একই গ্রামের গাছি মিজানুর রহমান বলেন, “খেজুরের রস পুরোপুরি শীতের ওপর নির্ভরশীল। আগে একটি গাছে এক ভার রস হতো, এখন অর্ধেকেরও কম। রস কম হলে গুড়ও কম হয়। অনেকেই খেজুর গাছ জ্বালানির কাজে ব্যবহার করছেন। নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসতে চায় না।” বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ সংরক্ষণ, গাছিদের প্রশিক্ষণ এবং সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো গেলে সাতক্ষীরায় খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন আবারও বাড়তে পারে। এতে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যও ফিরে আসবে।