মো. ফিরোজ আহমেদ, পাইকগাছা (খুলনা)

আসন্ন এয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে বড় দুই রাজনৈতিক শক্তি জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি’র প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বিএনপি মনোনিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মনিরুল হাসান বাপ্পী। আসনটির অতীত নির্বাচনী ইতিহাস এবং বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এই দুজনকে নিয়েই সাধারণ মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।

জামায়াত প্রার্থী: মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ শিক্ষাগত যোগ্যতায় কামিল পাস। তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত একজন প্রার্থী।

আয় ও সম্পদ: ২০১৮ সালের তুলনায় তার সম্পদ বৃদ্ধির হার অত্যন্ত সীমিত। বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯ লাখ ১৮ হাজার ২৫০ টাকা। সাত বছর আগে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা সামান্য বেড়ে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা হয়েছে।

স্থাবর সম্পদ: তার নামে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১.৮২ একর কৃষি জমি ও ১৬ শতক অকৃষিজমি রয়েছে।

মামলা ও ঋণ: তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩টি মামলা চলমান রয়েছে (৩১টি থেকে খালাস পেয়েছেন)। ২০১৮ সালে তার ১২ লাখ টাকা ঋণ থাকলেও বর্তমানে তিনি দেনামুক্ত।

প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবধান

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, দুই প্রার্থীর আয়, সম্পদ, ঋণ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতায় বড় ধরনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে।

বিএনপি প্রার্থী:

খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী পেশায় একজন ঠিকাদার ও মৎস্য ব্যবসায়ী। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি। হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক যুগে তার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

আয় ও সম্পদ: ২০১৪ সালে তার অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ১৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদ: ঢাকার কুড়িলে তার ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বাড়ি এবং পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৩৬ শতক কৃষি জমি রয়েছে। এছাড়া উপহার হিসেবে পাওয়া সাড়ে ৪১ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের তথ্য দিয়েছেন তিনি।

মামলা ও ঋণ: বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা চলমান (খালাস পেয়েছেন ২৪টিতে)। তার ও তার স্ত্রীর নামে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।