চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। নিহতদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামির আহমেদ সুমন (৪০) ও মো. শাওন (১৬) মারা যান। এর আগে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) শাওনের মা নুরজাহান আক্তার রানী (৪০) মৃত্যুবরণ করেন।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান সামিরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তার শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল এবং শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে আরও ছয়জন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে মো. সাখাওয়াত হোসেনের শরীরের ১০০ শতাংশ, আশুরা আক্তার পাখির ১০০ শতাংশ, শিপন হোসেনের ৮০ শতাংশ, আয়েশার ৪৫ শতাংশ, উম্মে আয়মান স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ এবং ফারহান আহমেদ আনাসের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

জানা গেছে, সোমবার ভোরে হালিশহরের বাসায় সাহরি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরপরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গুরুতর দগ্ধদের উদ্ধার করে সন্ধ্যার দিকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন মো. সাখাওয়াত হোসেন (৪৬), তার স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী (৪০), ছেলে শাওন (১৬), মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন (৪০), তার স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩৫), মেয়ে আয়েশা (৪), ছেলে ফারহান আহমেদ আনাস (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ছোট ভাই শিপন হোসেন (৩০)।

দগ্ধ সাখাওয়াতের চাচাতো ভাই মো. মিলন জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার বাগমারা গ্রামে। সাখাওয়াত হোসেন হালিশহরে মোটর পার্টসের ব্যবসা করেন। তার ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন পর্তুগাল প্রবাসী; চলতি মাসের ৪ তারিখে দেশে আসেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য সুমন পরিবারসহ চট্টগ্রামে সাখাওয়াতের বাসায় ওঠেন। অপর ছোট ভাই শিপনও হালিশহরের বাসিন্দা। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বাসায় জমে থাকা গ্যাস থেকে এ বিস্ফোরণের সূত্রপাত। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।