সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জ জেলায় কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের সংগঠন ‘সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট কর্মচারী সমিতি’র বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি নিলামে অংশগ্রহণ এবং অধিগ্রহণ করা সরকারি জমিতে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর ২৫ খ্রিস্টাব্দে মো. সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জনপ্রশাসন উপদেষ্টা, বাংলাদেশ সচিবালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ উল্লেখ করেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নলকা–সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা জমির ওপর থাকা স্থাপনা অপসারণের জন্য মোট ২৪টি লটে নিলাম আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেটের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মো. আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী ও আব্দুল মোমিন যোগসাজশে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই গত ১৫ নভেম্বর ২০২৪ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিলামকৃত ১৮ নম্বর লটে অংশ নেন, যা সরকারি আচরণবিধির পরিপন্থী।

সরকারি আচরণবিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি নিলামে অংশ নিতে পারেন না। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে অনুমতিপত্র যাচাই না করেই আব্দুল মান্নান সিদ্দিকীর নামে ১৮ নম্বর লটের স্থাপনা অপসারণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরে স্থাপনা অপসারণ না করে সেখানে দুই লাইনে ১৪টি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সামনের সারির দোকান তিন লাখ এবং পেছনের সারির দোকান দুই লাখ টাকায় বরাদ্দ দিয়ে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নিলামে দ্বিতীয় দরদাতা দেখাতে আ. রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তির শুধু একটি ভোটার আইডি ব্যবহার করা হয়। পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নিলামের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। এছাড়া ১৯ নম্বর লটের কার্যাদেশ পান তৌফিকুর রহমান। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ওই লটে অংশ না নিয়েও আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী ও আব্দুল মোমিন মালামাল রাতারাতি বিক্রি করে দেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক তদন্ত কমিটি গঠন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের খবর পেয়ে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ১৯ নম্বর লটের দরদাতার সঙ্গে জোরপূর্বক আপস করানো হয়।

পরবর্তীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে ১৮ নম্বর লটের স্থাপনা ১০ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও আংশিক ভেঙে বাকি অংশে দোকানঘর চালু রাখা হয়। বর্তমানে সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বজনদের মাধ্যমে একাধিক দোকান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি নিজে নিলামে অংশগ্রহণ করিনি। সমিতির পক্ষ থেকে অংশ নেওয়া হয়েছে। আমি সভাপতি হিসেবে উপরের পদে আছি বলেই আমার নাম এসেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না। এটি তাঁর ব্যক্তিগত নামে নয়, সমিতির নামে হয়েছে। যারা কাজটি দিয়েছে, আগে তাদের কাছে জানতে হবে। যদি সুযোগ না থাকে, তাহলে তারা কাজটি পেল কীভাবে?’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, ‘টেন্ডারে যে কেউ অংশ নিতে পারে। এখানে কোনো বাধা নেই। সমিতির কাগজপত্র ঠিক ছিল, আমরা সেগুলো যাচাই করেছি। আর এই টেন্ডারে একমাত্র তারাই অংশ নিয়েছিল।

সরকারি কর্মচারীরা নিলামে অংশ নিতে পারেন কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা অংশ নিয়েছে, নিয়মকানুন জানার দায়িত্ব তাদের। তারা সরকারি না বেসরকারি, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়।

নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্যের বিষয়ে পুনরায় জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাকে আগে নিয়ম জানতে হবে। তারপর বলতে পারব।