গাজীপুরে রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় যাত্রীবাহী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নানি-নাতনিসহ তিন নারীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলরুটের কালীগঞ্জ থানার আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব পাশে টেকপাড়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওয়াল টেক এলাকার মোবারক হোসেনের স্ত্রী সাদিয়া বেগম (২৪), একই এলাকার ইসহাক মিয়া ওরফে বাবু মিয়ার কিশোরী মেয়ে অনাদি আক্তার (১২) এবং অনাদির নানি, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মরজাল এলাকার বাসিন্দা মৃত নজরউদ্দিনের স্ত্রী কমলা বেগম (৫৫)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে কমলা বেগম তার নাতনি অনাদি আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী সাদিয়া বেগমের সঙ্গে বাড়ির পাশের রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। আড়িখোলা রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে টেকপাড়া এলাকায় পৌঁছালে অসাবধানতাবশত ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই কমলা বেগম ও সাদিয়া বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অনাদি আক্তারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি, মো. জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে এটি অসাবধানতাজনিত দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রেললাইন দিয়ে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

জিআরপি নরসিংদী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই, দিলীপ চন্দ্র সরকার জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা রেললাইনের আশপাশে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা জোরদার করা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে।