ফটিকছড়ি সংবাদদাতা : এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর সরকারিভাবে উপজেলায় বিভিন্ন জাতের ১৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়। গত মৌসুমে হয়েছিল ১৫৫ হেক্টরে। কিন্তু বেসরকারীভাবে এ আবাদ দ্বিগুণ হবে। ইতোমধ্যে ফুলে ফুলে সরিষা ক্ষেত ভরে ওঠায় খুশি স্থানীয় কৃষকেরা। উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমি ৪০ শতক জমিতে সরিষার চাষ করেছি। গত বছর থেকে এ বছর ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’

আবদুল্লাহপুর গ্রামের নিজান উদ্দিন বলেন, ‘সরিষার ফলন ভাল হওয়ায় এবার ফুলে ফুলে মাঠ ভরে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকালে কিছুদিন পরে দানা সরিষা ঘরে তুলতে পারব।’

সুয়াবিল গ্রামের আজম উদ্দিন জানান, ‘২৫ শতক জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে। মাঘ-ফাল্গুণ মাস সরিষা তোলার সময়। কয়েকদিন পরেই সরিষা তোলা শুরু হবে।’

নাজিরহাট ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আশরাফ জামান বলেন, ‘সরিষাক্ষেত প্রকৃতিতে যেন হলুদ আবরণ ছড়িয়ে দিয়েছে। এর তেল ও খৈলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব প্রকৃতি প্রেমিদের মন আনন্দে ভরে তোলে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘এ অঞ্চলের মাটি সরিষা চাষের উপযোগী হওয়ায় দিন দিন আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানকার কৃষকেরা সরিষা চাষাবাদ করে লাভজনক হওয়ায় আগের চেয়ে বেশি আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান ও সময়মত কৃষি উপকরণ এবং আবহাওয়া ভাল থাকায় সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। এবার বাম্পার ফলন আশা করছেন তিনি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘কৃষিকাজে প্রণোদনা ও কৃষকদের সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে সরকার। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেছি।’