মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকে : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কুলুবাড়ী এলাকা এখন বিষাক্ত ধোঁয়ার জনপদ। পরিবেশ অধিদফতরের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে একটি অবৈধ চুন কারখানা। এই কারখানার নির্গত কালো ধোঁয়া ও উৎকট গন্ধে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন প্রাণঘাতী নানা রোগে। কুলুবাড়ী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবাসিক এলাকার ঠিক মাঝখানে চুন পোড়ানোর বিশালাকার চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। চুন তৈরির সময় নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।
কারখানার ঠিক পাশেই রয়েছে বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখলেও নজরদারি এড়াতে রাতের আঁধারে চুন পোড়ানোর তীব্রতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে ঘরে জানালা-দরজা বন্ধ করেও রেহাই মিলছে না।স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, কারখানাটি চালুর পর থেকেই এলাকায় শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, চোখ জ্বালাপোড়া এবং চর্মরোগের প্রকোপ কয়েক গুণ বেড়েছে। এক ভুক্তভোগী মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছোট বাচ্চাটা সারারাত কাশে। এই ধোঁয়ার কারণে আমরা ঘরে টিকতে পারছি না। টাকা ওয়ালাদের কারখানার জন্য আমাদের কি মরতে হবে? অনেক দরিদ্র পরিবারকে আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে চিকিৎসার পেছনে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের সংচাইল গ্রামের মোমেন মিয়া এই কারখানার নেপথ্যে রয়েছেন। তিনি কোম্পানিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মামুন মিয়ার কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই এই মরণফাঁদ পেতেছেন। অবিলম্বে এই অবৈধ কারখানা অপসারণ করে নির্ধারিত শিল্প এলাকায় স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন কুলুবাড়ী গ্রামবাসী। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আবাসিক এলাকায় এমন দূষণকারী কারখানা চালানোর কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেয়েছি, দ্রুত তদন্ত করে কারখানাটি বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবদুর রহমানও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।