রংপুরের পীরগঞ্জে একটি ভোটকেন্দ্র থেকে৪ দিন পর ছয়টি ব্যালট পেপার ও দুটি সিল উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ধানের শীষ প্রতীকের। বাকি চারটির মধ্যে দুটি ‘হ্যাঁ’ এবং দুটি ‘না’ ভোটের।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের হাসার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে সিলমারা এসব ব্যালট উদ্ধার করা হয়। বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন। প্রায় ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সীলযুক্ত ব্যালট ও সিল উদ্ধারে লিখিত দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এ সময় পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় ইউএনওকে স্কুল ঘর থেকে বের করে গাড়িতে উঠানোর সময় উত্তেজিত জনতা কর্তক ইউএনও’র গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সোমবার ছুটি কাটিয়ে হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ গুটিকয়েক শিক্ষার্থী স্কুলে আসেন। বেলা ১১টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির জুনায়েদ ও পঞ্চম শ্রেণির নবীউল তাদের ক্লাসরুমে পড়ে থাকা কাগজ পরিষ্কার করতে থাকে। এক সময় ক্লাসরুমে থাকা আলমিরাতে পড়ে থাকা সিলমারা ৬টি ব্যালট পেপার দেখতে পায়। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদকে জানালে অন্য শিক্ষকরাও জেনে যায়। ধীরে ধীরে এ খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ ধানের শীষের কর্মী ও সমর্থকরা স্কুল মাঠে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঝাড়ু হাতে নারীরাও অবস্থান নেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা পপি খাতুন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার আজিজুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ সোহেল রানাসহ পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুদ্ধ জনতা ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বিষয়টি জানতে পেয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুন্নবী পলাশ সহ উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ঘটনাস্থলে আসেন। তারা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে থাকে। উত্তেজিত জনতার দাবির মুখে ইউএনও সেখানে ব্যালট পেপার উদ্ধারের লিখিত দেয়। প্রায় ২ ঘন্টা ধরে ইউএনও অবরুদ্ধ থাকার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।পরে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় অবরুদ্ধ ইউএনওকে বাহিরে বের করে গাড়িতে উঠানোর সময় উত্তেজিত জনতা ইউএনও’র গাড়ি ভাঙচুর করে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুন জানান, আমি প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের ডেকেছি, সেখানে বিস্তারিত জানাবো। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা শাহ আব্দুর রউফ কলেজে ব্যবস্হাপনা বিভাগের প্রভাষক মো রাহিদুজ্জামান বলেন, সকল এজেন্টের সামনে বাক্স দেখিয়ে ভোট গ্রহণ শুরু এবং সিল খেলা হয় সবার সামনেই । সবার সম্মতিক্রমে ব্যালট বাক্স ওপেন করি। ব্যালট গণনা করেই রেজাল্ট সিট রেডি করে তাদের হাতে দেই। ব্যালট বাক্সের বাইরে আলাদা ব্যালট পাওয়া গেলে আমাদের করার কিছু নাই।