মতলব (চাঁদপুর) সংবাদদাতা : চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি দুর্র্ধষ অনলাইন প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফার্নিচার ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও বিপুলসংখ্যক ডেবিট/ভিসা কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত ১২ জানুয়ারি মতলব উত্তর থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার জহিরুল ইসলাম (২২) গত ১১ জানুয়ারি মতলব উত্তর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অনলাইনে হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনির নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ফার্নিচার ব্যবসার লাভজনক প্রস্তাব দিয়ে প্রতারক চক্রটি তাকে বিভিন্ন সময়ে নগদ ও ব্যাংকিং মাধ্যমে মোট ৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল হাসানের নির্দেশনায় এবং মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব ও মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
এসআই মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল প্রথমে মতলব উত্তর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. নজরুল ইসলাম ওরফে নজু (৫৭) এবং মো. আল আমিন ওরফে রিফাত (৩০) নামের দুইজনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার ও বুড়িচং এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনির হোসেন (৪৫) এবং রাব্বি হোসেন ওরফে জাবেদ (২৪) কে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা মূলত গ্রামের সহজ-সরল মানুষ ও নারীদের টার্গেট করত। বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের এনআইডি ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে চেক বই, ডেবিট কার্ড ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর নিজেদের দখলে রাখত। পরে টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত।
পুলিশ জানায়, মূল হোতার কাছ থেকে ৬টি ব্যাংক চেক বই ও ১৯টি ডেবিট/ভিসা কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে এসব অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংসে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।