সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মহাসমাবেশকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা। শিক্ষকদের ৬টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ডাকে আগামী ৩০ আগস্ট শনিবার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন, ১০ ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি, এই তিন দফা দাবিকে সামনে রেখে মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষকদের ঢাকায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে মহাসমাবেশের আয়োজকরা। নেয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতিও।

বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রিয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ও অন্যান্য চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে কিছু উগ্রপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যগণ শিক্ষকদের মহাসমাবেশে অনুপ্রবেশ করে আন্দোলনকে সহিংস রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আশঙ্কায় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে একটি গোপনীয় প্রতিবেদনে সরকারকে তিনদফা পর্যবেক্ষনসহ চারদফা সুপারিশ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা নিজেদের প্রতি বেতন ও পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগে ক্রমেই ক্ষুদ্ধ হচ্ছেন। তারা মনে করেন, প্রধান শিক্ষকদের তুলনায় তাদের আর্থিক ও পেশাগত অবস্থান অবিচার পূর্ণভাবে অবনমিত করা হচ্ছে। প্রায় ৩ লাখ শিক্ষক উচ্চতর গ্রেড থেকে বঞ্চিত এবং ৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি আটকে আছে। ফলে শিক্ষকদের ছয়টি সংগঠনের ঐক্য পরিষদ আবারও আন্দোলনে নেমেছে। এ ইস্যু সমাধান না হলে তা শিক্ষাক্ষেত্রে অচলাবস্থা ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচনে ক্যাম্পাসজুড়ে ছাত্র সংগঠনগুলো প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছে। এই সময়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের শহীদ মিনারে এবং শাহবাগে আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদের মহাসমাবেশ আয়োজন করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশেপাশে ব্যাপক যানজট ও গোলযোগের সৃষ্টি হতে পারে। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে অনুপ্রবেশ করে আন্দোলনকে সহিংস রূপ দিতে পারে।

চার দফা সুপারিশে রয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলোর নির্বাচনী কর্মকা-ের সময়সূচির সাথে প্রাথমিক শিক্ষকদের সমন্বয় করা যাতে যানজট ও গোলযোগের সৃষ্টি হতে না পারে। যানজট নিরসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ গেইট দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের বহনকারী গাড়িগুলো প্রবেশ করতে না দেয়া। সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা করা যেতে পাবে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যাতে আন্দোলনকারীদের ভিতরে অনুপ্রবেশ করে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে না পারে সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা।

এ প্রেক্ষিতে দেশের সকল পুলিশ সুপারকে (এসপি) বিশেষ বার্তায় একটি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকা যেন ভাড়াকৃত বাস, মাইক্রোবাস, অন্য কোনো যানবাহন, ট্রেন/রেলপথ, লঞ্চ/নৌ পথ বা ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় শনিবারের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করতে না পারেন, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।