এম এ কাইয়ুম চৌধুরী, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা: শীতের শুরুতেই প্রতিবছরের মতো এবারও শিবালয় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গাছিরা আগাম খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খেজুরগাছ কাটার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে গাছিদের মধ্যে।
হালকা কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় চলছে শীতের আমেজ। রস আহরণের জন্য গাছিরা এখন থেকেই গাছের অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ঝেড়ে ফেলার পর গাছের বুক চিড়ে সাদা ছাল বের করার কাজ ইতোমধ্যে সেরে ফেলা হয়েছে। বছরজুড়ে অযতেœ পরে থাকা খেজুরগাছগুলো পড়ে থাকলেও শীতকালে গাছের চাহিদা ও যতœ বেড়ে যায়। কারণ, গাছ থেকে আহরিত হয় সুমধুর রস। রস জ্বাল করে পাটালি গুড়, ঝোলাগুড়, দানাগুড়সহ বিভিন্ন ধরনের গুড় তৈরি করে দেশ বিদেশে বিক্রিয় করা হয়ে থাকে। খেজুর রসের তৈরি পাটালি গুড়ের ঘ্রাণে এলাকা ম ম করে।
তবে যত বেশি ঠান্ডা পড়বে তত বেশি খেজুরের রস উৎপাদন হবে। পুরো মৌসুম চলবে রস আহরণ। গাছিরা রস আহরণ করে বাড়িতে জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে থাকেন। আর কয়েক দিন পড়ে নতুন গুড়ের মিষ্টি গন্ধে ধীরে ধীরে আমোদিত হয়ে উঠবে গ্রাম-বাংলা। গ্রামীণ জীবনে প্রত্যহিক উৎসব শুরু হয় খেজুরের মিষ্টি রস ও গুড়কে ঘিরে। পুরো শীত মৌসুমে চলে সুস্বাদে ভরা বিভিন্ন ধরনের পিঠা যার ঘ্রাণে ম-ম করে পুরো এলাকার আকাশ বাতাস । তবে সবেমাত্র শুরু হয়েছে রস সংগ্রহের কাজ।
শিবালয় উপজেলার তেওতা, শিবালয়, উলাইল, উথলী, আরুয়া, মহাদেবপুর ও শিমুলিয়া ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই প্রচুর পরিমাণে খেজুর গুড় তৈরি হয়। তবে এ সময়ে এক শ্রেণির অসাধু গুড় ব্যবসায়ী চিনি, রং এবং মোকামি গুর দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে বিভিন্ন উপকরনের সাহায়্যে খেজুর গুড় তৈরি করে বিক্রি করে হাট বাজারে বিক্রি করেন। প্রতি বছর শীত মৌসুমে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নকল খেজুরের গুড় তৈরি করে বিক্রি করেন। তবে উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নকল খেজুরগুড় তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (খামার বাড়ি) শাহজাহান সিরাজ জানান, সারাদেশের মতো মানিকগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে খেজুর গাছ রোপণ করা দরকার। তাহলে শীত মৌসুমে রস পাওয়া যাবে এবং উপাদেয় রস দেশীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের বিরাট ভূমিকা রাখতে পারবে।