ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতভর পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে।

জামায়াত সমর্থিত বিডিপির সংসদ সদস্য প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গণভোট ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জামায়াতের নারী কর্মীরা ইউনুছ পাটওয়ারীর বাড়িতে গেলে স্থানীয় বিএনপি কর্মী নুরনবীর ছেলে রুবেল (২৮) তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হেনস্তা করেন।

এক নারী কর্মী বিষয়টি তার স্বামী রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিনকে জানালে তিনি মোবাইল ফোনে রুবেলের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চাইলে তাকেও গালাগালি করা হয়। পরে রুবেল নিজে গিয়ে জসিম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালান এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

নিজামুল হক নাঈম আরও বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী বাজার এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হানিফ হাওলাদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষ এড়াতে তিনি নিজ নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থল ত্যাগের নির্দেশ দিলেও ফেরার পথে পেছন থেকে হামলার শিকার হন তারা। এতে অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হন, যাদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, জামায়াতের সহযোগিতায় বিডিপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে লালমোহনের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, মাগরিবের পর আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট ক্যাডাররা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ১২ থেকে ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের একাংশের দাবি, বিএনপি কর্মী রুবেল ও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার উসকানিতেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের আগে জামায়াতের নারী কর্মীদের দাওয়াতি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রথমে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সন্ধ্যার পর রায়চাঁদ বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ফের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়জন আহত ভর্তি হন, যাদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।