লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা : নাটোরের লালপুর উপজেলায় থানায় অভিযোগ দায়েরকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ধারালো অস্ত্রের কোপে এক বিএনপি কর্মীর নাক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষকে ঘিরে এলাকায় চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার নবীনগর গ্রামে দুই দফায় এ সহিংস ঘটনা ঘটে। প্রথমে ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত হলেও পরবর্তীতে তা রাজনৈতিক রূপ নেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আহতরা হলেন- নবীনগর গ্রামের বাসিন্দা সুজন ও তার ভাই মক্কেল হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মার চর এলাকা থেকে আখের শুকনো পাতা কিনে জমি থেকে নেয়ার সময় সুজনের সঙ্গে একই গ্রামের লালনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লালন ও তার সহযোগীরা সুজনকে মারধর করে। এ ঘটনায় সুজন লালপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে লালনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি একটি সিএনজি যোগে সুজনের বাড়িতে গিয়ে তার ও তার ভাই মক্কেল হোসেনের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় সুজনের নাক কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত লালন নাটোর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের সমর্থক। অপরদিকে আহত সুজন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর সমর্থক হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত লালন ও তার ভাই মিলনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ঘটনার পর নবীনগর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।