দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। নতুন মৌসুমি সবজির প্রাচুর্যে বাজার এখন সজীব, ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি।শুক্রবার দাউদকান্দি পৌরসদর, গৌরীপুর, গৌরীপুর উত্তর, পূর্ব ও সুন্দরপুরসহ আশপাশের বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক মাসের ধারাবাহিক উচ্চমূল্যের পর সবজির বাজারে এখন স্বস্তির ছোঁয়া। ক্রেতাদের অভিযোগ টানা পাঁচ থেকে ছয় মাস সবজির দাম ছিল আকাশচুম্বী। এক কেজি বেগুন বা শিম কিনতেও গুণতে হতো অতিরিক্ত টাকা। এখন শীতকালীন সবজি ওঠার ফলে দাম প্রতি কেজিতে গড়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমে এসেছে।স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, মাঠে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, বেগুন, লাউ, পুঁইশাক, লালশাক, ধনেপাতা, কাঁচামরিচসহ নানা প্রজাতির সবজি উঠছে প্রতিদিন। এতে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং দামও স্বাভাবিক হচ্ছে। দাউদকান্দির প্রধান সবজির আড়ত সুন্দলপুর বাজারে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, এখান থেকে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ ঢাকাসহ দেশের নানা অঞ্চলে সবজি সরবরাহ করা হচ্ছে।বাজারে বর্তমানে লাউ প্রতিপিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, শিম ৭০ টাকা, মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, করলা ৩০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি শসা ৫০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পৌর এলাকার সবজি বিক্রেতা মনু মিয়া বলেন, “এক সপ্তাহ আগেও অল্প কিছু সবজি কিনতে হিমশিম খেতে হতো। এখন দুইশ টাকায় বেশ ভালোভাবে বাজার করা যায়। গৌরীপুর বাজারের ক্রেতা ইসমাইল তালুকদার জানান, “আগের তুলনায় এখন বাজারে গিয়ে অনেক স্বস্তি লাগে। দাম কমে যাওয়ায় আগের চেয়ে বেশি সবজি কেনা যাচ্ছে। অন্যদিকে মেঘনা উপজেলার বাটেরা এলাকার কৃষক শাহ আলম বলেন, “এখন ফুলকপি বিক্রি করছি প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। শীতের সবজি উঠতে থাকলে দাম আরও কমবে।” দাউদকান্দির কাঁচাবাজার আড়ৎ সমিতির সভাপতি ও সবজি ব্যবসায়ী মো. আলআমিন বলেন, “দাউদকান্দি ও আশপাশের অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে সবজি বাজারে আসে। সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দাম কমেছে।”