ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদী এখন বিপদের সম্মুখীন। একদিকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ নিধন, অন্যদিকে ফিল্টার ফাঁদে ধরা পড়ছে নদীর প্রজননক্ষম ও রেণু মাছ। এই অবৈধ পদ্ধতিগুলো এখন নদীর জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার জন্য এক বড় হুমকি।

বৈদ্যুতিক শক: এক ভয়াবহ খেলা

বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরার জন্য শক্তিশালী ইনভার্টার ও ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। বৈদ্যুতিক তার নদীতে ফেলা হয়, যার মাধ্যমে পানিতে শক দেওয়া হয়। এই শকের প্রভাবে শুধু মাছই নয়, কুচিয়া, কাঁকড়া, শামুক, ব্যাঙসহ সমস্ত জলজ প্রাণী অচেতন হয়ে ভেসে ওঠে। এরপর সেগুলো সহজেই জাল দিয়ে সংগ্রহ করা হয়। এভাবে নদীর সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ফিল্টার ফাঁদ: প্রজনন চক্রের পতন

এছাড়া, নদীর সঙ্গে সংযুক্ত জমির পানির প্রবাহে ফিল্টার ফাঁদ বসানো হচ্ছে—যা বাঁশ, জাল ও লোহার রিং দিয়ে তৈরি করা হয়। এই ফাঁদগুলি ছোট ও রেণু মাছ আটকে দেয়, ফলে মাছের প্রজনন চক্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্ক মাছ খালে বা জলাশয়ে যেতে পারে না, যা তাদের প্রাকৃতিক জীবনচক্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতি।

প্রকৃতির ওপর আঘাত: স্থানীয়দের সাক্ষাৎকার

ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যেমন পশ্চিম ছাতনাই, ঝাড়সিংহেশ্বর, দোহলপাড়া, তেলিরবাজারসহ আরো অনেক স্থানে দিনে-রাতে প্রকাশ্যে এই ফাঁদ ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় জেলে আব্দুল মালেক (৬০) বলেন, “আগে দিনে জালে যেভাবে মাছ পাওয়া যেত, এখন দিনভর চেষ্টা করেও তা পাওয়া যায় না। ইলেকট্রিক শক দিয়ে সব মাছ মেরে ফেলা হচ্ছে।”

মৎস্যবিজ্ঞানীর উদ্বেগ

মৎস্যবিজ্ঞানী ড. মাহবুবুর রহমান জানান, “ইলেকট্রিক শক মাছের প্রজনন চক্র ধ্বংস করছে। রেণু মাছ মারা যাওয়ায় শোল, বোয়াল, টেংরা, পুঁটি প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। ফিল্টার ফাঁদ এ বিপর্যয়কে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্যের জন্য এক গুরুতর হুমকি।”

সরকারি পদক্ষেপ: দমন ও সচেতনতা

ডিমলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, “এই পদ্ধতিতে সব জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়। আমরা জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করছি এবং তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে অভিযান চালানো হবে।”

এদিকে, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান জানান, “এটি শুধু অবৈধ নয়, বরং জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

বিষয়টি নজরদারিতে আছে এবং যেকোনো সময় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এভাবে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও সচেতনতা

সৃষ্টি হতে পারে।