পাইকগাছা : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সর্বত্র খুচরা জ্বালানি তেলের দোকানগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ ক্রেতাদের কাছে "তেল নেই" বলে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও পর্দার আড়ালে বিশেষ ক্রেতাদের কাছে চড়া দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকা-ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড় এবং গ্রামীণ এলাকার খুচরা দোকানগুলোতে বোতল ও গ্যালনে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও অকটেন মজুত রয়েছে। তবে সাধারণ গ্রাহক তেল কিনতে গেলে অধিকাংশ দোকানি সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন যে স্টক শেষ। অথচ পরিচিত বা বিশেষ কেউ এলে সেই দোকান থেকেই প্রতি লিটার তেল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।ভুক্তভোগী কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা একাধিক দোকান ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। কিন্তু একটু পরেই দেখা যাচ্ছে অন্য একজনের কাছে বেশি দামে ঠিকই তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে পকেট কাটা হচ্ছে।"অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার অধিকাংশ খুচরা জ্বালানি বিক্রেতার কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। নিয়ম অনুযায়ী, পেট্রোল বা অকটেনের মতো দাহ্য পদার্থ বিক্রির জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক দোকানি কোনো তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র বিপুল পরিমাণ তেল মজুত রাখছেন। এতে একদিকে যেমন অগ্নিকা-ের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পাচ্ছে অসাধু চক্র। বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি: অবিলম্বে খুচরা দোকানগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা।

বৈধ লাইসেন্স আছে কি না তা যাচাই করা। ‎নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অভিযান পরিচালনা করা হলে দ্রুতই জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা দূর হবে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র জ্বালানি সংকট বিরাজ করছে। তেলের সন্ধানে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন গ্রাহকরা, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ডিজেল, পেট্রোল বা অকটেন। পাম্পগুলোতে সরবরাহ না থাকলেও স্থানীয় হাট-বাজারে দ্বিগুণ দামে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও মোটরসাইকেল চালকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সীমিত সরবরাহ থাকলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে ফিরছেন অনেকে। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে খোলা বাজারে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা হলেও, খুচরা দোকানগুলোতে তা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তেল পাওয়াকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি গাইবান্ধা শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের মধ্যে বাকবিত-ার একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ মজুত থাকা সত্ত্বেও তেল না দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। বিশেষ করে সাদুল্লাপুরের শাহানা ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কিছু পাম্পের বিরুদ্ধে গোপনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে তেল সরবরাহের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

মোটরসাইকেল চালক আজাদুল ইসলাম বলেন, "পাম্পে তেল নেই বলা হলেও বাইরের দোকানে বোতলে করে ঠিকই তেল পাওয়া যাচ্ছে। এটা স্পষ্টত একটি সিন্ডিকেটের কাজ। তারা পাম্প থেকে তেল সরিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছে।" আরেক ভুক্তভোগী কৃষক ছাকা মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "কাগজে-কলমে সরকারের নির্ধারিত দাম থাকলেও বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে পকেট কাটা হচ্ছে।"

তবে সংকটের কথা স্বীকার করলেও সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন একাধিক ফিলিং স্টেশন মালিক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, বর্তমানে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তেল আসার পরপরই তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।