চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় নিখোঁজের কয়েকদিন পর মো. আনিছ (৩৮) নামে এক ব্যক্তির খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের টানাপোড়েন ও দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাতে। ২১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহীদনগর চারতলার মোড় এলাকায় একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো মানবদেহের দুটি কাটা হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে উদ্ধারকৃত আলামতের সঙ্গে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হয়। তিনি মো. আনিছ (৩৮), পিতা হায়দার আলী, মাতা নূর জাদু বেগম; বাড়ি রাউজান উপজেলার চিকদাইর এলাকায়।

পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আনিছ গত ২০ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের এই তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ দেহের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধার এবং হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটনে অভিযান জোরদার করে।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২২ জানুয়ারি ভোররাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার পাঠানপাড়া এলাকা থেকে সুফিয়া আক্তার (৩৯) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, নিহত আনিছের সঙ্গে সুফিয়া আক্তারের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ও মনোমালিন্য তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেই ক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নেয় এবং সুফিয়া আক্তার পূর্বপরিকল্পিতভাবে আনিছকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশের ভাষ্যমতে, ২০ জানুয়ারি বিকেলে সুফিয়া আক্তার আনিছকে পাঠানপাড়ার বাসায় ডেকে নেন। সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে হত্যা করা হয় এবং পরে ঘটনাটি আড়াল করতে লাশের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়া হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ইতোমধ্যে নিহতের লাশের আরও খ-িত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই নির্মম ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকা- নয়-এটি বিশ্বাস, সম্পর্ক ও মানবিকতার ভয়াবহ ভাঙনের এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।