রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা : ৫১টি অবৈধ ইট-ভাটার কবলে রামগতির ৪শ একর কৃষি জমি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষ- আবাদ রাস্তাঘাট ও পরিবেশের তাছাড়া দুর্বিষহ দেখা দিয়েছে জনজীবনেও। ভাটা মালিকগনের পক্ষে মানা হয়নি জমির শ্রেনি পরিবর্তনের কোন নীতিমালা। গত দেড়যুগেই বেড়েছে নতুন প্রায় ৪০টির মতো ইটভাটা। উপজেলার এক ইউনিয়নে (চর-রমিজ) ৩৫টিসহ চর আলগী এবং চর পোড়াগাছা ইউনিয়নে এসব অবৈধ ইটভাটা গড়ে উঠতে দেখা যায়। প্রতিটি ইট ভাটায় ৬ - ৮ একর জমি ব্যবহার করে।এতে ৫১টি ইটভাটার নিছে ব্যবহৃত হচ্ছে ৩শতাধিক একর ফসলি জমি। ইট প্রস্তুতে মাটি সংগ্রহ করতে আরো শতাধিক একর ফসলী জমির টপ সয়েল গিলে খাচ্ছে এ ইটভাটার গুলো। কিন্তু উপজেলা ভূমি অফিসে খোজ নিয়ে জানা যায় ৫১ ইটভাটার মধ্যে ৪৪টি ইটভাটার ব্যবহৃত জমির খতিয়ান মূলে রেকর্ড আছে ১২৫ একর জমি। বাকি ৭টি ইটভাটার জমিই দেখানো হয় নি। এসব ইটভাটায় মাটি পরিবহন করতে গিয়ে অন্য জমির উপর দিয়ে নিতে যাতায়াতে ভুক্তভোগী জমির মালিকদের সাথে ট্রাক্টর টলির চালক- মালিক ও দালাল চক্রের সাথে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটতে দেখা যায় এতে একাধিক মারামারি ঘটনাও ঘটেছে। ইটভাটার অতিরিক্ত কালো ধোঁয়ায় পরিবেশের যেমন ক্ষতি করছে। তেমনি কয়েকশ কিলোমিটার গ্রামীন জনপদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগ ও গাছপালা এবং ফসলের ব্যপক ক্ষতির আশংকায় ২০২৪ সালে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে উচ্চ আদালতে এক আইনজীবী রিট দাখিল হলে আদালত এসব অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে একটি আদেশ জারি করেন। আদালতের আদেশে পরিবেশ অধিদপ্তর সারাদেশের ন্যায় লক্ষ্মীপুরের রামগতিতেও ২০২৫ সালের মৌসুমের শুরুতেই স্থানীয় প্রশাসনের সহয়তায় ইটভাটা বন্ধ রাখতে মাইকিং সহ নানা ভাবে প্রচারনা করে পরে উপজেলা পরিষদে হলরুমে ভাটা মালিকদের ডেকে এনে আদালতের আদেশ ও ইটভাটা বন্ধ রাখতে নির্দেশনার কথা জানিয়ে দেন কিন্তু এর কোন কিছু তোয়াক্কা না করে ইটভাটা মালিকরা স্ব স্ব ভাটা চালু করে। উচ্ছেদ অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‌্যাব ১১ সদস্য, পুলিশ সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তায় বুলডোজার ও ভেকু মেশিনের (এক্সভেলেটর) সাহায্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে, শুরু থেকে এখন পর্যান্ত তারা ৫১ ইটভাটার মধ্যে ৪৫ টি ইটভাটায় কোন কোন ভাটায় একাধিক বার সহ মোট ৫৩ বার অভিযান চালিয়ে ভাটা উচ্ছেদ করে এসময় ভাটা চিমনি ও কয়েক কোটি কাচা ইট বিনষ্ট করে এবং প্রতিটি ইটভাটার বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে মিটার জব্দ করা হয়। এছাড়া কয়েকটি ইটভাটা মালিককে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

ইটভাটা মালিক ও ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান বলেন তার প্রায় ১৬ একর জমির উপরে পাশাপাশি দুটি ইট ভাটা রয়েছে জমি ক্রয় করে এসব ভাটা পরিচালনা করেন তিনি। তবে অনেক ইটভাটা মালিক তার নিজস্ব জমির বাহিরও বাৎসরিক হারে নগদ টাকায় জমি অধিগ্রহণ করে ভাটা পরিচালনা করেন থাকেন। একটি ভাটা চালু করতে ৬-৮ একর জমির প্রয়োজন হয়। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে আদালতের আদেশ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন তারা এক-একটি ভাটায় কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি, এতে আমাদের অধিকাংশের পৈতৃক সম্পত্তি ও সবকিছু বিক্রি করে এখানে বিনিয়োগ করতে হয়েছে। উচ্ছেদের কারনে অনেক মালিক ভিক্ষা করা ছাড়া আর উপায় থাকবে না। সরকার যখন ইটভাটা বন্ধ রাখতে বলেছে তার আগেই আমরা লক্ষ লক্ষ টাকা ধার দেনা করে শ্রমিক সংগ্রহে ও মাটি ক্রয়ে দাদন দিয়ে রেখেছি। যেভাবেই হোক ভাটা চালানো ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই। তবে ভবিষ্যতে চালাবো কিনা তা ভেবে দেখবো।