মোংলা সংবাদদাতা : মোংলায় শীতে নদীতে কর্মরত শীতার্ত মাঝিদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী। শীতের তীব্রতায় যখন নদীপথে চলাচলকারী ট্রলার ও বিভিন্ন ইঞ্জিনচালিত নৌযানের মাঝিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন, ঠিক সে সময় মানবিক সহায়তা হিসেবে ১৬০ জন মাঝির হাতে কম্বল তুলে দেন তিনি।

গত ১৩ জানুয়ারি বিকেলে মোংলা বন্দর সুন্দরবন ওয়াপাদা পারাপার সাম্পান মাঝি সমবায় সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোংলা বন্দর সুন্দরবন ওয়াপাদা পারাপার সাম্পান মাঝি সমবায় সমিতি এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যবসায়ী সমিতির অন্তর্ভুক্ত মাঝিরা উপকৃত হন।

নদীতে দীর্ঘ সময় কাজ করতে গিয়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে রাত কাটাতে বাধ্য হওয়ায় মাঝিরা শীতজনিত নানা সমস্যায় পড়েন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ পেয়ে অনেক মাঝিই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, মোংলা বন্দর সুন্দরবন ওয়াপাদা পারাপার সাম্পান মাঝি সমবায় সমিতির সভাপতি মো. বেল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক স্বপন শিকদার, কোষাধ্যক্ষ মো. আশরাফ আলী, সদস্য মহিদুল ও মো. খলিলুর রহমান, মাঝিদের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শহিদুল ভুইয়া, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বাবুলসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মাঝিরা।

সমবায় সমিতির সভাপতি মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগে মাঝিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শীতের মধ্যে নদীতে কাজ করা মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, শীতের সময়ে নদীতে কর্মরত মাঝিদের কষ্ট অনেক বেশি হয়। অনেক সময় তাদের নৌযানেই রাত কাটাতে হয়। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা কিছুটা স্বস্তি পান। তিনি আরও বলেন, সমাজের অসহায় ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের মানবিক দায়িত্ব এবং সরকারের সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও এই ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।