পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কর্মব্যস্ত নগরী ছেড়ে ইতোমধ্যে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন হাজারো মানুষ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ঘরে ফেরার মানুষের ভিড়।

নগরীর রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও নৌঘাটগুলোতে সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আশায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে।

রেলপথে ঘরে ফেরা যাত্রীদের অন্যতম ভরসা বাংলাদেশ রেলওয়ে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশনে এসে ভিড় করছেন যাত্রীরা। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ একাই ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, নোয়াখালীগামী ট্রেনের অপেক্ষায় বসে আছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আব্দুল করিম। তিনি বলেন, “সারা বছর কাজের চাপের কারণে বাড়িতে যাওয়া হয় না। ঈদের সময়টাতেই পরিবারের সঙ্গে একটু সময় কাটানোর সুযোগ পাই। তাই যত কষ্টই হোক, ঈদের আগে বাড়ি পৌঁছাতে চাই।”

অন্যদিকে সড়কপথেও বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে। নগরীর বিভিন্ন বাস কাউন্টার থেকে দূরপাল্লার বাসে করে যাত্রীরা যাচ্ছেন কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। বাস কাউন্টারগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রীদের ভিড় লেগেই আছে।

নগরীর একটি বাস কাউন্টারে টিকিটের অপেক্ষায় থাকা পোশাক কারখানার শ্রমিক রাশেদা আক্তার বলেন, “বছরের এই সময়টার জন্যই আমরা অপেক্ষা করি। বাচ্চারা গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদির সঙ্গে ঈদ করবে-এই আনন্দটাই আলাদা।”

নদীপথ ও সমুদ্রপথেও বাড়ি ফিরছেন অনেক মানুষ। চট্টগ্রাম থেকে লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানে করে উপকূলীয় অঞ্চল এবং দ্বীপাঞ্চলের মানুষ তাদের বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন। বিশেষ করে সন্দ্বীপ, হাতিয়া ও উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের জন্য নৌপথ এখনো গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত মাধ্যম।

ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় পরিবহন খাতেও ব্যস্ততা বেড়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও নৌঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা।

অনেক যাত্রী জানান, বছরের দীর্ঘ কর্মব্যস্ততার মাঝে ঈদই তাদের জন্য পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সবচেয়ে বড় উপলক্ষ। তাই কিছুটা কষ্ট, ভিড় বা দীর্ঘ যাত্রা-সবকিছুই তারা হাসিমুখে মেনে নিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান বলেন, “ঈদের সময় পরিবারের সবাই একসঙ্গে হওয়ার যে আনন্দ, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তাই প্রতি বছর ঈদের আগে বাড়ি ফেরার এই যাত্রাটা আমাদের জন্য আলাদা এক অনুভূতি।”

সব মিলিয়ে পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই ঘরমুখো মানুষের ঢল আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও নৌঘাটগুলোতে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।