যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামের উদ্যোগে রোকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নুর-ই আলী নূর মামুন এর সভাপতিত্বে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে জেলা শহরের নিজস্ব দলীয় কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য এবং যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রাসূল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন যশোর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের পেশাজীবী থানার সভাপতি খন্দকার রশিদুজ্জামান রতন,অফিস সেক্রেটারি গাউসুল আজম, সম্মেলন সঞ্চালনা করেন পেশাজীবী থানার সেক্রেটারি আবু ফয়সাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রাসূল বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি রোকনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংগঠনের শৃঙ্খলা, আদর্শ ও কর্মনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ একটি সৎ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে। সেই নেতৃত্ব গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামের রোকনদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে হবে। ইসলামী মূল্যবোধ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণা জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভিপি আব্দুল কাদের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ অবিচার, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের শিকার হয়েছে। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের ধারক হিসেবে জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীদের আরও বেশি ত্যাগী, সংগঠিত ও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি রোকনদের প্রতি এলাকার সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, জনসংযোগ জোরদার এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান।
অন্যান্য বক্তারা সংগঠনের আদর্শিক দৃঢ়তা বজায় রেখে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সাংগঠনিক ঐক্য ও শৃঙ্খলাই জামায়াতে ইসলামের সবচেয়ে বড় শক্তি।
রোকন সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে আগত নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলন শেষে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচনি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।