গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গোবিন্দগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শওকত জামানের সেচ কাজে ব্যবহৃত চায়না কোম্পানির একটি শ্যালো মেশিন তুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

জানা গেছে, রোববার রাতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের বারটিকরী গ্রামে জমিতে সেচ কাজে ব্যবহৃত শ্যালো মেশিনটি তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। শওকত জামান জানান,দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত তিনি তার নিজ জমিতে শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচকার্য পরিচালনা করে আসছেন। শওকত জামান বিএডিসি বগুড়া অঞ্চলের একজন চুক্তিবদ্ধ চাষী।প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি ধান আবাদ করে বিএডিসিতে ধানবীজ সরবরাহ করে আসছেন। এদিকে শ্যালো মেশিন তুলে নিয়ে যাওয়ায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্কীমটি ক্ষতির মুখে পড়েছে। উল্লেখিত ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এমনটি ঘটেছে বলে তাদের ধারণা। কারণ অর্ধশতাব্দি ধরে এ ধরণের কোনো ঘটনা এখানে ঘটেনি।

শরীয়তপুরের ৩টি আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপি

শরীয়তপুর সংবাদদাতা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুরের আসনেই জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই শরীয়তপুরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ উচ্ছ্বাস চলছে পুরো জেলা জুড়ে। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুরের তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের ন্যূনতম এক-অষ্টমাংশ (১২ দশমিক ৫ শতাংশ) ভোট না পাওয়ায় ১৫ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

শরীয়তপুর-১ (পালং, জাজিরা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে ৭৭,৩৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ- রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৬২৭১৭ ভোট।

এ আসনে ১২.৫ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় ৬ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তারা হলেন নূর মোহাম্মদ মিয়া (একতারা) ৬১৬ ভোট, ফিরোজ আহমেদ (ট্রাক) ৫৫১ ভোট, আব্দুর রহমান (শাপলা কলি) ৪৭৫ ভোট, মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ (হাতপাখা) ১০ হাজার ৮১৭ ভোট, গোলাম মোস্তফা (ঘোড়া) ৩৫৯ ভোট এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম (মোটর সাইকেল) ১৪ হাজার ৬৪৪ ভোট।

শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো: সফিকুর রহমান (কিরন) ধানের শীষ প্রতীকে পান ১,২৯,৮১৪ ভোট বিজয় হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন ৭০৮৯২ ভোট। এ আসনে ৭ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন, আখতারুজ্জামান স¤্রাট (ট্রাক) ২৮৩ ভোট, ইমরান হোসেন (হাতপাখা) ৬ হাজার ৫০৫ ভোট, জসীমউদ্দীন (লাঙ্গল) ২ হাজার ৫৪৭ ভোট, পারভেজ মোশাররফ (কলম) ৪৪২ ভোট, মাহমুদুল হাছান (বটগাছ) ৩১৩ ভোট, আলমগীর হোসেন (কম্পিউটার) ২৪৬ ভোট এবং মো. নাসির (সোফা) ২০৬ ভোট।

শরীয়তপুর-৩ (গোসাইরহাট, ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ধানের শীষ প্রতীকে ১,০৭,৫১৬ ভোট পেয়ে বিজয় অর্জন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লায় পেয়েছেন-৬৯৬৭৪ ভোট। বাকি দুই প্রার্থী ১২.৫ শতাংশ ভোট অর্জন করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন, হানিফ মিয়া (হাতপাখা) ৯ হাজার ৮১৪ ভোট এবং আব্দুল হান্নান (লাঙ্গল) ২ হাজার ৬৪ ভোট।

এই তিনটি আসনে সংসদীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটেও শরীয়তপুরবাসী পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেয়। ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পড়ে ৩,০১,৮২৮ ভোট এবং সেখানে ‘না’ ভোট পড়েছে ২,১০,৭৭৫টি।