তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জামায়াত ইসলামীর নির্বাচনী অফিস আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সম্প্রতি উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের জামতৈল গ্রামে অবস্থিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শনিবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ এবং জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর মাওলানা ইউসুফ আলী জানান, অন্যান্য নির্বাচনী অফিসের পাশাপাশি জামতৈল গ্রামের এই অফিসেও নিয়মিত কার্যক্রম চলছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে শুক্রবার দিবাগত রাতে তিন পাশের বেড়া ও আসবাবপত্রগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
জামায়াত আমীর জানান, আমাদের বন্ধু প্রতীম সংগঠনের কিছু ব্যক্তিরা নির্বাচনে হুমকি ধামকি এবং নির্বাচনে কার্যক্রম পরিচালনা যেন না করতে পারি, আমরা কেউ যেন ভোট না চাইতে পারি, কেন্দ্রে যেন অবস্থান না করতে পারি, ভোট কেন্দ্রে যেন এজেন্ট না থাকতে পারে- এজন্য যা করা দরকার তারা তা করছেন। এরই অংশ হিসেবে তারা আমাদের নির্বাচনী অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আগুনের ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন আকন্দ জানান, সহকারি পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লা আল মামুন জানান, জামতৈল গ্রামে জামায়াত ইসলামীর নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন দেওয়ায় সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন দেওয়া সম্পূর্ণভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন। এখানে যতগুলো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে যেন কোন ভাবে নির্বাচনী আচরণবিথি লঙ্ঘন করা না হয়। নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে রিপোর্ট করা হবে এবং এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাজীপুর
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর : গাজীপুর-২ সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচনী শোভাযাত্রায় বাধা, পরিকল্পিতভাবে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং ধারাবাহিক সহিংসতার প্রতিবাদে গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা, মোঃ আলম হোসেনের নিকট লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি)জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর কার্যালয়ের সামনেই দুপুর ২ টায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান বলেন, গাজীপুর-২ আসনে শাপলা কলি মার্কার নির্বাচনী প্রচারণা পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে এবং এটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। তিনি অভিযোগ করেন, ৩১ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী শোভাযাত্রা নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ডের পোড়াবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির প্রচারণার মাইকবাহী অটোরিকশা ইচ্ছাকৃতভাবে শোভাযাত্রার গতিরোধ করে এবং উস্কানিমূলক আচরণ শুরু করে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে শোভাযাত্রা রাস্তা পার হয়ে পোড়াবাড়ী বাজারের দিকে অগ্রসর হলে ধানের শীষের স্টিকারযুক্ত প্রাইভেট কার ব্যবহার করে গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করার চেষ্টা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, একই ঘটনায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেল ও পরবর্তীতে আরেকটি সাদা প্রাইভেট কার দিয়েও তার ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও এনসিপি জেলা সদস্য সচিব খন্দকার আল আমিন গুরুতর আহত হন। এর আগের দিন ৩০ জানুয়ারি এরশাদনগর ৫ নম্বর ব্লকের ছোট বাজারে শাপলা কলির প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয় এবং পোড়াবাড়ী বাজারে স্থাপিত তার নির্বাচনী বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের সভাপতি মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, এসব ঘটনা শুধু একটি দলের ওপর হামলা নয়, বরং পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান, শ্রমিক শক্তির প্রধান সংগঠক হিসেবে পরিচিত গাজীপুর জেলা নেতা মোঃ নাজমুল হোসেনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। লিখিত অভিযোগপত্রে এসব ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ, আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসী কর্মকা- হিসেবে উল্লেখ করে ১১ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
দাউদকান্দি (কুমিল্লা)
কুমিল্লার হোমনায় গত ২২ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।গত ২৮ জানুয়ারি হোমনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল হক (জহর) বাদী হয়ে ২১৫ জনের নাম উল্লেখ করে হোমনা থানায় মামলাটি করেন।
সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আচরণ বিধি মেনে প্রচার -প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ কর্মীদের উপর আক্রমণ করেছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় বাধা সৃষ্টি করছে। মহিলা কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ, হেনেস্তা ও হুমকি-ধুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।নির্বাচনী প্রচারে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। আমরা চাই আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ হোক। যারা জামায়াত ইসলামকে নিষিদ্ধ করেছে, গত ৫ ই আগস্ট তারাই নিষিদ্ধ হয়েছে। আবার জামায়াতে ইসলামী উন্মুক্ত পরিবেশে সংগঠনের কাজ করছে।আগামী নির্বাচনে সরকার গঠনের প্রত্যয় নিয়ে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে জামায়াত। চাঁদাবাজ মুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান নোয়াখালী-১আসনের চাটখিল-সোনাইমুড়ী উপজেলার কর্মসংবাদিকদের সাথে ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লার সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মোঃ ছাইফ উল্লাহ সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।