বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গণভোটের মর্যাদা সর্বোচ্চ যেখানে সরাসরি ভোটারগণ মতামত দিয়ে মজবুত আইনি ভিত্তি রচনা করেন। বাংলাদেশ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের ঐতিহ্য হলো গণভোট আলাদাভাবেই আয়োজন করা। কিন্তু, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জামায়াতসহ ৮ দলের যৌক্তিক দাবি পাশ কাটিয়ে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে গোলকধাঁধা সৃষ্টি করেছেন। এখন সরকারকেই সেই সংকট নিরসন করতে হবে। একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে কোনটির ফলাফল আগে ঘোষণা করা হবে? গণভোট নাকি জাতীয় সংসদ? গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কি দশা হবে? কোথাও অনাকাঙ্খিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে নির্বাচন স্থগিত করতে হলে গণভোটের কি হাল হবে? সরকারকেই এসব প্রশ্নের সমাধান দিতে হবে।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর দায়িত্বশীল সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি বড় দলের একাংশসহ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, জাপাসহ ১৪ দল, সিপিবিসহ কোন কোন বাম দল ইতোমধ্যেই ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান জানান দিয়েছে যা জুলাই আন্দোলনে দু’হাজার শহীদ, অসংখ্য মানুষের পঙ্গুত্ব-অন্ধত্বসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে অমর্যাদা করার শামিল। আমরা গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করার জন্য চট্টগ্রাম নগরবাসীসহ দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পূর্বে আলাদাভাবে গণভোট দিয়ে জূলাই সনদের আইনি মর্যাদা প্রদান, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে প্রতিটি ভোটার ও ছোট-বড় প্রতিটি দলের মর্যাদা সমুন্নত করা, পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের গণহত্যা, দুর্নীতিসহ জুলুম-নির্যাতনের দৃশ্যমান বিচার, পতিত স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি মেনে নিতে সরকারকে বাধ্য করার লক্ষ্যে ৫ ডিসেম্বর জুমাবার বিকেলে ঐতিহাসিক লালদীঘির মহাসমাবেশে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সহ সকল শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। উক্ত সমাবেশে দল মত নির্বিশেষে সবাইকে অংশগ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য, হামেদ হাসান ইলাহী, মাওলানা মমতাজুর রহমান, আমির হোছাইন, প্রফেসর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসেন, ফখরে জাহান সিরাজী, মাহমুদুল আলম, প্রফেসর মুহাম্মদ নুরুন্নবী, ফারুকে আজম, ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইন প্রমুখ।