ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ.এস.এম সালেহ আহমেদ বলেছেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য তথ্য অধিকার আইন জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন এবং জনগণের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। অপরদিকে, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩ দুটি ভিন্ন আইন।
প্রথমটি নাগরিকদের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করে, আর দ্বিতীয়টি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট সরকারি তথ্য প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ করে। গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভূমি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আয়োজিত ‘তথ্য অধিকার আইন এবং ঞযব ঙভভরপরধষ ঝবপৎবঃং অপঃ, ১৯২৩’ বিষয়ক প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিনিয়র সচিব আরও বলেন, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর মাধ্যমে জনগণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা তথ্য জানার সুযোগ পায়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের ক্ষমতায়ন, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি হ্রাস করা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩’ রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষা ও গুপ্তচরবৃত্তি প্রতিরোধের জন্য প্রণীত আইন। আইন মুখস্থ করার বিষয় নয়, বরং নিয়মিত চর্চা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তা কাজে লাগাতে হবে। উল্লেখ্য, তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ প্রথম জারি হয় ২০ অক্টোবর ২০০৮ সালে। পরবর্তীতে এটি সংসদে পাস হয়ে ১ জুলাই ২০০৯ থেকে কার্যকর হয়।
অপরদিকে, লর্ড কার্জনের শাসনামলে (১৮৯৯-১৯০৫) ভারতবর্ষে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের প্রাথমিক খসড়া তৈরি হয়, যা কয়েক দফা সংশোধনের পর ১৯২৩ সালে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট আকারে কার্যকর হয়। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৪৯ অনুচ্ছেদ এবং Bangladesh Laws (Revision and Declaration) Act, ১৯৭৩ অনুসারে আইনটি বর্তমানে প্রচলিত।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. শরিফুল ইসলাম। প্রশিক্ষণে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।