খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) নির্বাচনী এলাকায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু ভোটারদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনকালীন ঝুঁকি নিয়ে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় তিনি বলেন, ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি দেশের অন্যতম হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। এখানে প্রায় চার লক্ষ ভোটারের মধ্যে এক লক্ষেরও বেশি হিন্দু ভোটার রয়েছেন, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভোটের সমীকরণ পরিবর্তনের কারণে এ এলাকার হিন্দু ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। এরই প্রতিক্রিয়ায় প্রতিপক্ষের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি, হুমকি-ধামকি, মামলা ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি জানান, গত বছরের ৩১ অক্টোবর ডুমুরিয়া স্বাধীনতা চত্বরে অনুষ্ঠিত বৃহৎ হিন্দু সম্মেলনের পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই সম্মেলনে হাজার হাজার হিন্দু নারী-পুরুষ শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের পর বিভিন্ন ইউনিয়নে বাড়ি, বাড়ি গিয়ে অংশগ্রহণকারীদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে, পা ভেঙে দেওয়া, মিথ্যা মামলা ও সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখানো হচ্ছে। এতে অনেক ভোটার প্রকাশ্যে কথা বলতে না পারলেও ভোট দেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন।
বৈঠকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও তিনি সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হিন্দু নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে ভুক্তভোগীরা সরাসরি অভিযোগ তুলে ধরেন। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও সম্প্রতি আবারও ভয়ভীতির মাত্রা বেড়েছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আরপিও ও আচরণবিধি অনুযায়ী যে কোনো ভোটারকে রাজনৈতিক কারণে ভয় দেখানো একটি গুরুতর অপরাধ। ধানের শীষ হোক বা দাঁড়িপাল্লার হোক, যে দলের ভোটারই হোক, কাউকে হুমকি-ধামকি দিলে তা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। অভিযোগ যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব অনুসন্ধান ও কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ডুমুরিয়া-ফুলতলা এলাকা অতীতে চরমপন্থী ও আন্ডারওয়ার্ল্ড তৎপরতার জন্য পরিচিত ছিল। তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালে যৌথবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করে সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রেখেছিলেন। সে কারণেই এখনো কিছু গোষ্ঠী তাকে টার্গেট হিসেবে দেখছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বিভিন্ন সূত্র থেকে তিনি নিজের জীবন নাশের হুমকির তথ্য পাচ্ছেন বলেও জানান।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে চলাচলের সময় সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে আরও সক্রিয় ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পর আফসোসের চেয়ে আগাম সতর্কতাই শ্রেয় এ মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটকেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আসনে প্রায় ১৫০টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যার অধিকাংশ জেলা পুলিশের আওতায় এবং কিছু কেএমপি এলাকায়। অতীতে ভোটকেন্দ্র দখল, ভোটারদের বাধা দেওয়া ও সহিংসতার নজির রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত উপস্থিতিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠক শেষে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, ধর্ম, দল বা মত নির্বিশেষে সকল ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, কর্ম পরিষদ সদস্য আবু ইউসুফ মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।