জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৩দিন আগে জামায়াতের মহিলা শাখার একটি বিক্ষোভ মিছিল বগুড়া-৪ আসনের ভোটের হিসাব-নিকাশ ওলট পালট করে দিয়েছে।

রোববার সকালে কাহালু পৌর এলাকায় আয়োজিত এই মিছিলে নারীদের বিপুল সংখ্যক উপস্থিতিতে অবাক আয়োজকরাও। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের নারীদের বিপুল ভোটে জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত হবে এমনটাই বলছেন এলাকার ভোটাররা।

বগুড়ার কাহালু এবং নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে বগুড়া-৪ আসন গঠিত। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৮ জন। পুরুষ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪১ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৯ জন। হিজড়া ভোটার আছেন ৮ জন।

এই আসনের দুই উপজেলাতেই রয়েছে জামায়াতের শক্তিশালী সংগঠন। উভয় উপজেলাতে একাধিকবার চেয়ারম্যান ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী। ফলে ঐতিহ্যগত ভাবেই এই আসনটি জামায়াতের শক্ত ঘাটি হিসেবে চিহ্নিত। তবে, এবারের চিত্র একটু ভিন্ন। জামায়াতের পূর্ব নির্ধারিত প্রার্থী কাহালু উপজেলা পরিষদের সাবেক ৩ বারের চেয়ারম্যান মাওলানা তায়েব আলী ইন্তেকালের পর নেতৃত্বের শূণ্যতা সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় আমিরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমান তুরস্কে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব সংগঠন ইফসু’র সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক শিবির নেতা ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজকে দেশে ডেকে এনে এই আসনের প্রার্থী ঘোষনা করেন। প্রবাসের বিলাসী জীবন ছেড়ে গ্রামের মাটি ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবদিত করেন মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। অনুপম চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে অল্প সময়েই তিনি কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলার মানুষের হৃদয় জয় করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতায় দুই উপজেলায় হতদরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সেবায় অসংখ্যক কার্যক্রম পরিচালনা করে সবার নয়নের মণি হয়ে ওঠেন তিনি। তার মানবিক কার্যক্রমে একসময়ের বিরোধীদেরও ভালোবাসা অর্জনে সক্ষম হন এই তরুণ নেতা।

উচ্চশিক্ষিত ও মার্জিত ব্যবহারের মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ ক্রমেই হয়ে উঠেছেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দলমত নির্বিশেষে সবার মাঝে নিজেকে গণমানুষের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। যার প্রমান দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হাজার হাজার নারী ভোটারের অংশগ্রহন। এর আগে শনিবার পুরুষদের নিয়ে ‘মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লা’ ঐতিহাসিক র‌্যালী করেছেন ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। সেই র‌্যালীতে প্রায় ৩০ হাাজরেরও অধিক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

জামায়াতে ইসলামী মহিলা শাখার আয়োজনে রোববার সকালে কাহালু সদরের রেডরোজ কিন্ডার গার্টেনের সামনে বিমাল নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সারাদেশে নারীদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এই সমাবেশে বগুড়া-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল বাসেত, কাহালু উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুস শাহীদ ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শহিদুর রহমান সবুজ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে ড. মোস্তফা বলেন, আমরা যদি ক্ষমতায় যেতে পারি অবশ্যই নারীদের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করব এবং নারীরা যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেই ব্যবস্থা করব। সাথে সাথে পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টে নারীদের জন্য নিরাপদ ব্রেস্ট ফিডিং এর ব্যবস্থা করা হবে। রাস্তাঘাট এবং পৌরসভায় নারীদের জন্য যাত্রী ছাউনির ব্যবস্থা করা হবে। বাসে এবং ট্রেনে নারীদের জন্য নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করা হবে। তিনি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি সকল নারীদেরকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে কাহালু-নন্দীগ্রামবাসীর সেবা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। রেডরোজ কিন্ডারগার্টেন স্কুল থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে আবার কাহালু পৌরসভার সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়। মিছিলে দশ হাজারের অধিক নারী অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শিরা জানিয়েছেন।