আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে এই সময়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের ঘটনা আবারো বেড়েছে। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর বিভিন্ন সীমান্তপথে লক্ষ করা যাচ্ছে অস্ত্র কারবারিদের সক্রিয়তা। প্রতিদিনই সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের অন্তত ৪০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, মূলত এই ফাঁক দিয়েই অস্ত্র ঢুকছে। বিজিবি এখানে তিনটি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করেও কারবারিরা কৌশলে কাজ চালাচ্ছে। ধরা পড়া অস্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ৯ মিমি পিস্তল রয়েছে। রাজশাহীর সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ী, পবা, বাঘা ও চারঘাট হয়ে অবৈধ অস্ত্র ঢুকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভোটের সময় এসব অস্ত্র সহিংসতায় ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। ফলে এই সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ নজরদারি করা হচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী ২৭ জেলায় অস্ত্র চোরাচালানে জড়িত ৭৮৭ জনের তালিকা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৮ জন, রাজশাহীর ৩ জন, জয়পুরহাটের ১৬ জন এবং নওগাঁর ১৯ জন রয়েছে। তালিকাভুক্তদের ওপর বিশেষ নজরদারি চলছে। বিজিবি নিয়মিত নতুন কারবারিদের শনাক্ত করে তালিকা হালনাগাদ করছে। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে রাজশাহী বিভাগে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র ঢোকে। শিবগঞ্জ উপজেলার রাণীনগর হঠাৎপাড়া, শাহাপাড়া, প-িতপাড়া, বালিয়াদিঘিসহ কিছু গ্রামে সীমান্তপথে অস্ত্র আমদানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য রয়েছে।
সম্প্রতি কয়েকটি অভিযান চালিয়ে বেশ পরিমাণ অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত বছরের ২৬ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ৮টি বিদেশি পিস্তল, ১৪টি ম্যাগাজিন, ২৬টি গুলী, গানপাউডার ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এর আগে ১৬ আগস্ট রাজশাহী নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি এয়ারগান, একটি রিভলবার ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতেও একের পর এক অভিযানে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলী ও অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জেই শেষ ছয় মাসে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪১টি গুলী ও সাড়ে ৯ কেজি বিস্ফোরক জব্দ হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় বিশেষভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বড় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ভোটের পরিবেশও স্বাভাবিক রয়েছে। বিজিবির রাজশাহীর ১ ব্যাটালিয়নের সূত্রে বলা হয়, পদ্মা নদীতে সাতটি স্পিডবোট দিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। ভোট উপলক্ষে সাত শতাধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।