ধুনট, সংবাদদাতা: প্রতি বছর আমের মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গে গাছে গাছে শুরু হয় কীটনাশক স্প্রের উৎসব। উদ্দেশ্য একটাই ফুল ও ভবিষ্যৎ ফলকে পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেউ কি সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ে কীটনাশক ব্যবহার করে? নাকি অজ্ঞতাবশত ফলনের মূল শত্রুকেই নিজের হাতে ধ্বংস করে? বগুড়ার ধুনটে আগাম জাতের কিছু গাছে আসতে শুরু করেছে আমের মুকুল। আমের ভালো ফলনের জন্য অনেকে অনেক পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকে। কীটনাশক স্প্রে গ্রামাঞ্চলের একটি সচেতনতাহীন পদ্ধতি।

আমের ফলন অনেকাংশেই নির্ভর করে প্রাকৃতিক পরাগায়নের ওপর। মৌমাছি, প্রজাপতি, মাছি ও অন্যান্য পরাগবাহক পোকামাকড় এক গাছ থেকে অন্য গাছের মুকুলে পরাগ স্থানান্তরের মাধ্যমে ফল ধারণ নিশ্চিত করে। কিন্তু মুকুল অবস্থায় অতিরিক্ত ও নির্বিচারে কীটনাশক প্রয়োগের ফলে এই উপকারী প্রাণীগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরাগায়নে। ঝরে যায় ফুল, কমতে থাকে ফল আসার সম্ভাবনা। শেষ পর্যন্ত কাক্সিক্ষত উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয় কৃষক।

গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক বাগানে পোকার ক্ষতির চেয়ে পরাগায়ন ঘাটতির ক্ষতিটাই বেশি। অথচ অধিকাংশ কৃষক বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে না। কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু উপকারী পোকাই নয়, মাটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকেই দুর্বল করে তোলে। এর সমাধান রয়েছে সচেতন ব্যবস্থাপনায়। মুকুল পর্যায়ে অপ্রয়োজনে স্প্রে বন্ধ করা, প্রয়োজন হলে সন্ধ্যার পর সীমিত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, জৈব ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে মৌমাছি ও প্রজাপতির নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা। আমের ভালো ফলনের জন্য বিষের ওপর নয়, বরং প্রকৃতির সহায়ক শক্তির ওপর ভরসা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে হলে এখনই আমাদের চাষাবাদ পদ্ধতিতে সচেতন পরিবর্তন করা খুবই জরুরি।