বিজ্ঞাপনের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার দুই ছেলে এবং সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার দুই ছেলে ও পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল এবং মঈন ইকবাল। এছাড়াও রয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন (বিএইচ হারুন), পরিচালক শফিকুর রহমান, জামাল গুপ্ত আহমেদ, শায়লা শেলী খান, এএইচএম ফেরদৌস, নব গোপাল বণিক এবং প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফাত। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে আসামি করা হয়েছে এমডি এম. রিয়াজুল করিম, ডিএমডি সৈয়দ নওশের আলী, এসভিপি মোশফেক আলম খান এবং মাইন্ডট্রি লিমিটেডের এমডি ইকবাল আল মাহমুদকে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত এইচবিএম ইকবালের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বিজ্ঞাপন প্রচারের আড়ালে মাইন্ডট্রি লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৪ টাকা অগ্রিম প্রদান করা হয়। দুদকের দাবি, এই বিশাল অঙ্কের অগ্রিম জমা ছিল প্রকৃতপক্ষে অর্থ আত্মসাতের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।
তদন্তে দেখা গেছে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একটি বড় অংশ সমন্বয় দেখানো হলেও ৯৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা এখনও অসমন্বয়কৃত এবং আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালে মাত্র পাঁচটি কার্যাদেশের বিপরীতে ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা সরাসরি আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।
অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে ১০০ মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচারের চুক্তি থাকলেও বাস্তবে প্রচার করা হয়েছে মাত্র ৫০ মিনিট। মোট ২ হাজার ৪০০ মিনিট প্রচারের কথা বলে নথিপত্রে পুরো কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়, কিন্তু বাস্তবে ১ হাজার ২০০ মিনিট প্রচার করে বাকি অর্ধেক অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। ভাউচার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৫টি কার্যাদেশের বিপরীতে প্রকৃত খরচ হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৮ লাখ টাকা, অথচ বিল তোলা হয়েছে ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি।
দুদক জানিয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগনের আমানতের টাকা লুটপাটের এই প্রক্রিয়ায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।