গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-তে পদোন্নতি প্রক্রিয়া ঘিরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদোন্নতি না দেওয়ার দাবিতে রবিবার সকালে মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ব্রি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে তারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থগিতের আহ্বান জানান।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, ব্রির ডিপিসি-১ ও ডিপিসি-২ সভার মাধ্যমে গত প্রায় দেড় দশকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রি কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকুরী প্রবিধানমালা ২০১১-এর ত্রুটিপূর্ণ তফসিলের সুযোগ নিয়ে বিতর্কিত পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বৈষম্য ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন, অথচ বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তদের পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, এর আগে ব্রি কর্তৃপক্ষের কাছে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হলেও সেগুলোর কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-ব্রি কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকুরী প্রবিধানমালা ২০১১-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত অনুমোদন, বিগত ১৫ বছরে চাকরিচ্যুত ২৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আত্মীকরণ, বৈষম্যের শিকার বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি প্রদান, বিগত সময়ের দুর্নীতি ও অপশাসনের তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ নিয়োগ ও পদোন্নতি বাতিল করা। এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তারা মহাপরিচালকের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (গ্রেড-১০) পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ফিডার পদ হিসেবে 'ফটোগ্রাফার' পদ সংযুক্ত করার বিষয়টিও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন একটি পদকে ফিডার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও পেশাগত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এ ধারা পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে ফটোগ্রাফার পদ থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির সম্ভাব্য তালিকায় থাকা কর্মকর্তা মো. মাসুম রানাকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া অতীতে একটি মারামারির ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠন হলেও সেই প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ফটোগ্রাফার মো. মাসুম রানা বলেন, তিনি চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময়ই ব্রির বিধিমালায় ফটোগ্রাফার পদ থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির সুযোগ থাকার বিষয়টি জেনেই চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। তাই এ পদোন্নতিকে তিনি তার অধিকার বলে মনে করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ব্রি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ মো. রমজান আলী, কর্মকর্তা প্রতিনিধি, মো. সেলিম ভূঁইয়া, শ্রমিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, মো. আলমগীর হোসেনসহ অন্যরা। তারা বলেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত পদোন্নতির স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের কৃষি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্রির মতো একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই বিতর্কিত পদোন্নতি ইস্যুতে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সকল পক্ষের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।