মোঃছায়েফ উল্লাহ, মীরসরাই : ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে মীরসরাই জুড়ে এখন আমের সোনালি মুকুলের সমারোহ। গাছের শাখা-প্রশাখায় ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের মনোমুগ্ধকর সাজ। দক্ষিণা হাওয়ায় দুলছে ডালপালা, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মিষ্টি ঘ্রাণ। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত বাগানগুলো যেন প্রকৃতির নিজস্ব উৎসবে মেতে উঠেছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন বাণিজ্যিক আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গাছেই এসেছে আগাম মুকুল। কোথাও কোথাও ছোট গুটি ধরতেও শুরু করেছে। মুকুলের ভারে নুইয়ে পড়ছে শাখা-প্রশাখা। অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই মুকুল আসায় চাষিদের মাঝে দেখা দিয়েছে বাড়তি উৎসাহ।
মুকুল আসার আগেই গাছের পরিচর্যা শুরু করেছেন বাগান মালিকরা। রোগ-বালাই থেকে রক্ষা পেতে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিচ্ছেন তারা। বাম্পার ফলনের আশায় স্প্রে পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে প্রয়োজনীয় বালাইনাশক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ভালো হওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, গত ৫-৭ বছর ধরে মীরসরাইয়ে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষের প্রসার ঘটেছে। রাসায়নিক ও ভেজালমুক্ত উৎপাদনের কারণে এখানকার আমের চাহিদা দেশজুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক বাগান মালিক এখন অনলাইনে অর্ডার নিয়ে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে আম পৌঁছে দিচ্ছেন।
মীরসরাইয়ের বাগানগুলোতে দেশি ও বিদেশি- দুই ধরনের আমই চাষ হচ্ছে। বিদেশি জাতের মধ্যে রয়েছে জাপানের জনপ্রিয় মিয়াজাকী (সূর্যডিম), ক্যাপ্টেন, কিউজাই, ব্যানানা ম্যাংগো, ইন্দোনেশিয়ান ব্রুনাই কিং, কিং অব চাকাপাত, আলফেনসো, ডক মাই, হানিডিউ, আপেল ম্যাংগো, আলফানচুন ও থাই ব্যানানা।
পাশাপাশি দেশি জাতের আম্রপালি, বারি-৪, বারি-১১, গৌড়মতি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, হাড়িভাঙা, কাটিমন, রামগই, খিরশাপাত ও ফজলী আমেরও ব্যাপক চাষ হচ্ছে।
করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর এলাকার ‘মধুরিমা রিসোর্ট অ্যান্ড মাল্টি ফার্ম’-এর স্বত্বাধিকারী মঈন উদ্দিন জানান, তার ৩১ একর জায়গাজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির আমের চারা রোপণ করা হয়েছে। তিনি বলেন,
“অন্য বছরের তুলনায় এবার গাছে আগাম মুকুল এসেছে। তাই আগে থেকেই পরিচর্যা শুরু করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের চেয়ে বেশি ফলন পাওয়ার আশা করছি।”
মীরসরাই উপজেলা উপ-কৃষি কর্মকর্তা কাজী নুরুল আলম জানান, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫০-৬০টি বাণিজ্যিক আম বাগান রয়েছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিতভাবে বাগান মালিকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের আম চাষে উৎসাহিত করছে। তিনি বলেন, “এবার আগাম মুকুল এসেছে। চাষিরা সঠিক সময়ে পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।”
উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কমবেশি আমগাছ রয়েছে। কেউ বাড়ির আঙিনায়, কেউবা ছাদে উন্নত জাতের চারা রোপণ করে নিয়মিত ফল পাচ্ছেন। অনেকেই বারোমাসি আমগাছও লাগিয়েছেন।
সব মিলিয়ে মীরসরাই এখন বসন্তের রঙে রাঙা- আমের সোনালি মুকুলে ভরে উঠেছে প্রকৃতি। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে চলতি মৌসুমে এখানকার আম উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।