রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস। শিশুটি জীবিত আছে। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে বুধবার দুপুরে গভীর নলকূপের ওই পাইপে পড়ে যায় শিশুটি। তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বুধবার বেলা সোয়া একটার দিকে রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। একটি সেমি গভীর নলকূপের জন্য খনন করা ৮ ফুট ব্যাসার্ধের সরু গর্ত দিয়ে পড়ে যায় দুই বছরের শিশু সাজিদ। তার বাবার নাম রাকিবুল ইসলাম। কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামেই তার বাড়ি। স্থানীয় লোকজন জানান, গ্রামের পাশের এ জমিটির মালিক কছির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। এক বছর আগে কছির উদ্দিন তার জমিতে সেচের জন্য একটি সেমিডিপ নলকূপ বসানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ৩৫ ফুট বোরিং করার পর সেখানে পানি পাননি। তাই নলকূপ বসানো হয়নি। একবছর ধরে গর্তটি সেভাবেই পড়ে ছিল। বুধবার দুপুরে শিশুটির মা ওই মাঠে ধানগাছের খড় নিতে যান। ওই সময় সাজিদ খেলতে গিয়ে গর্তে পড়ে মাটির ভেতরে ঢুকে যায়। স্থানীয়রা প্রথমে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। শিশুটিকে উদ্ধারের লক্ষ্যে স্কেভেটার মেশিনের সাহায্যে গর্তের পাশে মাটি উত্তোলন করা হয় এবং সেটি প্রায় ৪০ ফুট গভীর পর্যন্ত গেছে। ঘটনাস্থলে মেডিকেল টিম, পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। শিশুটিকে জীবিত রাখতে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে।

শিশুটির মা রুনা খাতুন বলেন, “মাটিতে পুতে যাওয়া ট্রলি দেখতে এসে আমার বাচ্চাটি আমার কোল থেকে নেমে যায়। গর্তে মধ্যে পড়ে গিয়ে আমার বাচ্চা মা মা করে জোরে জোরে কাঁদছে। আমি তাকে খুঁজছি কিন্তু দেখতে পাচ্ছি না। অবশেষে গর্তের মধ্যে থেকে কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে। মা হয়ে দাঁড়িয়ে থেকেও আমার বুকের ধনকে গর্ত থেকে আমি তুলতে পারছি না” বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম জানান, তারা আসার আগেই স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তখন কিছু মাটি গর্তে পড়ে গেছে। তারা ক্যামেরা পাঠিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন। মানুষের কোলাহলের কারণে শিশুটির কোনো সাড়া বুঝতে পারছেন না। তিনি জানান, শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য তারা অক্সিজেন পাঠাচ্ছেন। পাশে স্কেভেটর দিয়ে খনন করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১টা ২০ মিনিটে গর্ত থেকে উঠে আসেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে উদ্ধার অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। পুরো প্রক্রিয়ার বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ‘তাঁরা ৪২ ফুট পর্যন্ত খনন করেও শিশুটিকে পাননি। এখন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলবেন। উদ্ধার অভিযান চলবে কি না জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ, অভিযান চলবে। যদি মাটির ১০০ ফুট নিচেও থাকে, এভাবেই খনন করতে হবে।’ তাজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমি না পাওয়া পর্যন্ত কাজ করতেই থাকবো। আমাদের ক্যাপাসিটি কতো, সেটি বিষয় না।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে অধ্যাপক মুজিব

তানোরের কোয়েল হাট পূর্ব পাড়ায় গভীর গর্তে আটকে পড়া শিশু সাজিদের উদ্ধার অভিযান পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এসময় সমবেত সবাইকে নিয়ে সুস্থতা সহকারে জীবিত উদ্ধারের জন্য মহান রবের সাহায্য কামনা করে দোয়া করেন। তিনি সাজিদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনকে ধৈর্য ধারণ করার জন্য পরামর্শ দেন ও তাদেরকে সান্ত্বনা দেন। দেশবাসীকেও শিশু সাজিদের জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করার অনুরোধ করেন।