কৃষিজমিতে হেভি মেটালের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাটির উর্বরতা কমছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি,খাদ্য,মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসিন।

তিনি বলেন, দেশের ৭০ ভাগ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে হলে কৃষি খাতের উন্নয়নের বিকল্প নেই। কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখতে মাটি,পানি ও পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। গোমতী নদী এক ইঞ্চি মাটিও কাটতে দেওয়া হবে না

শুক্রবার (২০ ফ্রেরুয়ারি) সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে তিন মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, শিল্পবর্জ্য, অপরিকল্পিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণের কারণে কৃষিজমিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ছে। এতে মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, উৎপাদনশীলতা কমছে এবং দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাটি পরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার, গবেষণা সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে উৎসাহ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

সভায় গোমতী নদীর চর ও তীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, গোমতী নদীর মাটি রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এখন থেকে এক ইঞ্চি মাটিও কাটতে দেওয়া হবে না। নদীর তীর ও চর থেকে মাটি অপসারণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, ভাঙন বাড়ছে এবং আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আব্দুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, পরিচালক শামসুল আলম, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিচালক এস এম কায়সার আলীসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।