মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান, মোংলা থেকে: মংলা সমুদ্র বন্দরে গাড়ি আমদানি ও তৈরি পোশাক রপ্তানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশের মোট আমদানিকৃত গাড়ির প্রায় ৫৫ শতাংশই এই বন্দর দিয়ে খালাস হচ্ছে বলে জানিয়েছে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস হাউস। পাশাপাশি, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে এবং বাণিজ্য কার্যক্রমের ভারসাম্য আনতে মংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

২০০৯ সালে মংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানির যাত্রা শুরু হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই বন্দরটি দেশের অন্যতম প্রধান গাড়ি খালাস কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৪টি গাড়ি এই বন্দর দিয়ে খালাস হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই বন্দরে ২,৫৪৩টি গাড়ি এসেছে।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্র্যাফিক) মোঃ কামাল হোসেন জানান, “গত অর্থবছর পর্যন্ত মোট ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৪৩৪টি গাড়ি আমরা আমদানি করেছি। এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ২,৫৪৩টি গাড়ি এসেছে, যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।”

গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও মংলা বন্দরের ভূমিকা ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে এখানে তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরু হয়। গত চার বছরে মোট ১০,১৪৭ মেট্রিক টন পোশাক রপ্তানি হয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে এককভাবে ৪,৪৫১ মেট্রিক টন তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান মুন্সী বলেন, “মংলা বন্দরে টারিফ ও চার্জ তুলনামূলকভাবে কম, এবং ব্যবসায়ীদের সুবিধার কারণে রপ্তানি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আপাতত চার্জ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও নেই।”

মংলা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাংক ঋণ ছাড়াই ব্যবসায়ীরা এখানেসহজে পণ্য খালাস করতে পারছেন। দ্রুত কার্যক্রমের সুবিধায় ইম্পোর্টাররা এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই পণ্য খালাস সম্পন্ন করতে সক্ষম হচ্ছেন।

কাস্টমস হাউসের কমিশনার সফি উজ্জামান বলেন, “এখানে কম ভলিউমের কারণে এক্সামিনেশন দ্রুত শেষ হয়। ইম্পোর্টার প্রস্তুত থাকলে একদিনেই পণ্য খালাস সম্ভব।”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, “আমরা চাই মংলা বন্দরের সক্ষমতা আরও কাজে লাগানো হোক। গাড়ি আমদানিসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি-রপ্তানিতেও মংলাকে অগ্রাধিকার দেয়া গেলে ব্যবসায়ীরা আরও সহজে সেবা পাবেন এবং দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য প্রবাহও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।”

বর্তমানে মংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মংলা বন্দরের গুরুত্ব আরও বাড়াবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।