সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চাঁদা না পেয়ে তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বীর নিবাসসহ পাঁচটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের পদ্দপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় লুৎফা বেগম বাদী হয়ে ১৭ মার্চ বিকেলে মো. কামরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-২২ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে বাদীর ছেলে মনিরুজ্জামানের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় ১৬ মার্চ রাত ১১টার দিকে মো. কামরুল ইসলাম (পিতা: মৃত আব্দুল গফুর)-এর নেতৃত্বে খাজা মিয়া, সবুজ মিয়া, আল আমিন, আতিক, মিন্টু, সিদ্দিকসহ প্রায় ৪০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি অতর্কিতভাবে বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ, আব্দুস সাত্তার ও হোসেন আলী ভোলার সরকার প্রদত্ত তিনটি বীর নিবাসসহ মনিরুজ্জামান ও ওহাব আলীর বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।
হামলার সময় ঘরে থাকা নগদ ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা (যা নাতিকে বিদেশ পাঠানোর জন্য জমি বিক্রি করে রাখা হয়েছিল), প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার, ফ্রিজ, ডাইনিং টেবিল, বেসিন, হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বাদী লুৎফা বেগম বলেন, “আমাদের পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগ সমর্থন করে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বাড়িগুলোতে পুরুষ সদস্য কম থাকায় এই সুযোগে সন্ত্রাসীরা বারবার চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় প্রথমে আমার ছেলে মনিরুজ্জামানের দোকান ভাঙচুর করে, পরে বাড়িঘরেও হামলা চালায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে তারা আমাদের ওপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার করেছে। ১৬ মার্চ রাতে তারাই আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে এবং এখন উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।”
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া জানান, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”