রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় যৌথ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযান কালে উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নে চর আফজল গ্রামের কারীর গোজা এলাকার তিনটি ইটভাটা সম্পূর্ণ রূপে গুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। পরে ওই এলাকার অন্য ইটভাটাতে যাওয়ার পথে রামগতি - তোরাবগঞ্জ সড়কের চৌধুরী বাজারের এলাকায় কয়েক শত ইটভাটার শ্রমিক রাস্তা অবরোধ করে প্রশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে। এসময় তারা রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নিজদেরকে আমরা শ্রমিক ইটভাটা বন্ধ করা চলবে না বলে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উত্তেজিত বিক্ষোভ কারিদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করেও তাদের সরাতে পারেননি, শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে প্রশাসনের লোকজন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রশাসনের লোকজন অভিযান বন্ধ রাখবেন বলে তাদের আস্বস্ত করলে শ্রমিকরা তাদের অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আমজাদ হোসেন অভিযান বন্ধ করে অন্য প্রশাসনের লোকজনকে সাথে নিয়ে ফিরে আসেন। রামগতি উপজেলায় ৪৯ টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে এগুলো বন্ধ করতে পরিবেশ অধিদপ্তর উদ্যোগ নেয়। গত বৃহস্পতিবার (৬ নবেম্বর) সকাল থেকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ইটভাটা গুলো বন্ধে অভিযানে নামে। অভিযানে গুড়িয়ে ধ্বংস করা ইটভাটাগুলো হচ্ছে যৌথ মালিকিয় আমানত ব্রিকস, গোলাম ছারওয়ারের মেসার্স জে এস ব্রিকস এবং আবদুল ওহাব ব্রিকস। ওই তিনটি ইটভাটার চিমনি, ভাটা এবং কাঁচা পাকা প্রায় ২৭ লাখ ইট গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় মেসার্স জে এস ব্রিকসের মালিক না পাওয়া গেলেও আমানত ব্রিকসের মালিককে ২ লাখ টাকা এবং আবদুল ওহাব ব্রিসকসের মালিকের ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এসময় দুটি ব্রিকসের ৪ টি অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন এবং আবদুল ওহাব ব্রিকসের পোর পোট্রি লাইনটিও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক জমির উদ্দিন, রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আমজাদ হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তর প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিক আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষীপুরের উপপরিচালক হারুনুর রশিদ পাঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর প্রধান কার্যালয়ের মনিটরিং এন্ড এনপ্রসেসিটি উয়িং পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন, রামগতি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন, এসময় তাদের সহায়তা করেন র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট, বিদ্যুৎ বিভাগ, এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য (আনসার) গন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আমজাদ হোসেন জানান রামগতিতে মোট ৫১ টি ইটভাটা রয়েছে এরমধ্যে সরকার ব্রিজ বনলতা ব্রিক্স এর বৈধ কাগজপত্র বাকি ৪৯ টি বেটার কোন ধরনের বৈধ কাগজপত্র নেই। এ অবৈধ ইটভাটা গুলো বন্ধ করতে অভিযান এই অভিযান আগামী এক সপ্তাহ ধরে চলবে আজকের অভিযানে আমানত ব্রিকসের ২ লাখ টাকা এবং আব্দুল ওহাব ব্রিকসকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে তবে অভিযানের একপর্যায়ে কয়েকটি ইটভাটার শ্রমিক মিলে রাস্তা অবরোধ করে এবং রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দিলে পরিস্থিতি আলোকে আজকের মত অভিযান বন্ধ রাখা হয়। তবে শ্রমিকদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে এসে কথা বলার জন্য বলা হয়েছে এখন পর্যন্ত তারা কেউ আসেননি আসলে তাদের দাবি শুনা হবে বলে তিনি জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জমির উদ্দিন জানান রামগতিতে ৪৯ টি অবৈধ ইটভাটার তালিকা আমাদের হাতে আছে এই ইট ভাটা গুলো কোন ধরনের পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র নেই এখন এগুলো জিজ্ঞাসা হোক আর যাই হোক সবগুলোকে বন্ধ করতে হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। আদেশ অনুযায়ী ৬ই নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে একটানা অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ইটভাটা গুলো বন্ধ করা হবে।