টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন, মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত, গ্রাহক হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধসহ বিদ্যুৎ সেবার মানোন্নয়নের দাবিতে ১০ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরফান উদ্দিন-এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন নাগরপুর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার হাসনাত জামিল।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে নাগরপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়ম, ঘন ঘন লোডশেডিং, ভুল ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল, সেবায় হয়রানি, দুর্নীতি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, ট্রান্সফরমারের সংকট এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতাসহ নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহক, কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় নাগরপুরবাসীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১০ দফা দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো— নাগরপুরে নিরবচ্ছিন্ন, মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে হবে; ট্রান্সফরমার চুরি রোধে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে; ট্রান্সফরমার নষ্ট হলে দ্রুত প্রতিস্থাপন নিশ্চিত করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ আদায় ও গ্রাহক হয়রানি বন্ধ করতে হবে; মিটারের সঠিক রিডিং নিশ্চিত করে প্রকৃত ব্যবহার অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করতে হবে এবং ভুল, অতিরিক্ত বা কল্পিত ‘ভৌতিক’ বিল প্রদান বন্ধ করতে হবে; বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের নির্ধারিত শেষ তারিখের কমপক্ষে সাত দিন আগে প্রতিটি গ্রাহকের হাতে বিল পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে গ্রাহকরা সময়মতো বিল পরিশোধ করতে পারেন; বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লাইন বিকলসহ জরুরি অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ২৪ ঘণ্টার কার্যকর সেবাব্যবস্থা চালু করতে হবে; জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ লাইন, খুঁটি, তার ও অন্যান্য অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়ন করতে হবে; নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে ঘুষ, অবৈধ অর্থ আদায়, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও গ্রাহক হয়রানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে; এবং নাগরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দুর্নীতিমুক্ত ও গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, নাগরপুরবাসী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; তারা অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও জনভোগান্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এসব দাবি কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়; বরং সাধারণ মানুষের ন্যায্য নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। তাই দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় নাগরপুরবাসী তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে বাধ্য হবেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে নাগরপুর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার হাসনাত জামিল। এছাড়াও স্মারকলিপির সঙ্গে নাগরপুর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে বিভিন্ন শ্রেনীর নাগরিকদের গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি কপি সংযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য স্মারকলিপি প্রদানকালে নাগরপুরের বিভিন্ন পেশার নাগরিকগণ উপস্থিত ছিলেন।