যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে উৎসবমুখর ও আনন্দময় করে তুলতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ ও পেশাদার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়াই সবার প্রত্যাশা।
গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাগরপাড়ে অবস্থিত ১৯৪ একর আয়তনের ডিসি পার্কে মাসব্যাপী দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসব ‘চট্টগ্রাম ফুল উৎসব-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিনিয়র সচিব বলেন, নতুন ও বর্ণিল সাজে সেজে ওঠা ডিসি পার্কে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অত্যন্ত উচ্চমানের ও সুপরিকল্পিত একটি আয়োজন করা হয়েছে, যা একটি বড় কর্মযজ্ঞের উদাহরণ। এই আয়োজন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে উৎসবের খবর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একসময় বাংলাদেশকে ‘বারো মাসের তেরো পাবন’ বলা হতো। এখন দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে, যা আমাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। চট্টগ্রাম সফরের এই সুযোগে এমন একটি ব্যতিক্রমী ও বৃহৎ আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত বলেও জানান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মো. এহছানুল হক বলেন, “এটি শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয়, বরং সারাদেশের মানুষের জন্য আনন্দের বিষয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে নির্মল আনন্দ উপভোগ করবেন।” জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ অন্যান্য জেলার জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এছাড়া বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মাসব্যাপী এই ফুল উৎসবে দেশি-বিদেশি প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহ রয়েছে। এবছর দর্শনার্থীদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে জিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি ও ফ্লাওয়ার টানেল। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এছাড়াও আয়োজন করা হয়েছে গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ ও মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে একটি সচেতনতামূলক স্টল এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান কর্নার স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আজ থেকে শুরু হওয়া চট্টগ্রাম ফুল উৎসব–২০২৬ চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে প্রতিদিন অর্ধলক্ষাধিক দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।