খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরের ফটকের অদূরে প্রকাশ্যে জোড়া হত্যা ঘটনার ২৪ ঘন্টায় থানায় মামলা হয়নি। তবে হত্যাকারীদের সনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছে।

গতকাল রোববার দুপুরে একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে হাসিব হাওলাদার (৪০) ও ফজলে রাব্বি রাজন (৩৫) এ দু’জনকে প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া একই দিনগত রাতে সম্রাট কাজী (২৮) নামের এক যুবককের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে দুর্বৃত্তরা।

পুলিশ বলছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত দুজনই পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। ঘটনায় জড়িত প্রতিপক্ষ ২-৩টি গ্রুপের নাম উঠে আসছে। ইতিমধ্যে তাদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে আদালতের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। তারা অবিলম্বের আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, খুলনায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মাদক কারবার, আধিপত্যকে বিস্তারের বলি পলাশ চক্রের দুই সদস্য হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজন। এরমধ্যে রাজনেই বিরুদ্ধে অস্ত্র-মাদক, চাঁদাবাজির ঘটনায় ৬টি মামলা রয়েছে। হাসিব অস্ত্র মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামী। এই চক্রের সঙ্গে আশিক-নূর আজিম ও বি-কোম্পনি দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব। পলাশ চক্রের প্রধান বর্তমানে অস্ত্রমামলায় কারাগারে রয়েছেন। অপর চক্রগুলোর প্রধানরা নিরুদ্দেশ। হাসিব ও ফজলে রাব্বি হত্যাকাণ্ডটি পলাশ চক্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা পরিকল্পিতভাবে করেছে। কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অংশ নেন ঘাতকরা। যাদের কয়েকজন প্রকাশ্যে ও বাকীরা অন্তরালে থেকে হত্যা মিশন সফল করে। ঘাতকদের দ্রুত পালিয়ে যেতে সহায়তা করে।

গত ৩০ মার্চ নগরীর আরামবাগে পুলিশ ও যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার ও ১০ জনকে গ্রেফতার আসামীদের মধ্যে ছিলেন পলাশ চক্রের প্রধান পলাশ শেখ। এই্ মামলার ৬ আসামী ছিলেন নিহত ফজলে রাব্বি রাজন, আর হাসিব এই মামলায় চার্জশীটভুক্ত আসামী।

খুলনা থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত দু’জনের মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার বেলা দ্ইুটার দিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। পুলিশ প্রাথমিকভাবে হত্যাকারীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। আশা করছি দ্রুতই এ বিষয়ে অগ্রগতি মিলবে।

খুলনায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি বিশেষ করে আদালত অঙ্গনে দিনে দুপুরে লোমহর্ষক জোড়া খুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা। সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু ও সদস্য সচিব শেখ নুরুল হাসান রুবা এক যুক্ত বিবৃতিতে আদালত অঙ্গনে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশ প্রশাসনসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আরো কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

অপরদিকে রবিবার রাত ৯টার দিকে নগরীর জিন্নাহপাড়া এলাকায় সম্রাট কাজী নামের এক যুবককের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিটি যুবকের বাম হাতে লাগে। আহত ওই যুবক নড়াইলের বাসিন্দা কাজী আজিজুর রহামানে ছেলে। বর্তমানে তিনি শিপইয়ার্ড এলকায় বসবাস করেন। তাঁকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুুম নিশ্চিত করে বলেন, আহত যুবক সম্রাট কাজী শিপইয়ার্ডে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে গুলি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।