দীর্ঘ ১৭ বছর পর এক নতুন ভোরের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। জেন-জেড বা ‘প্রজন্ম জেমিনি’র হাত ধরে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, আজ তার প্রতিফলন ঘটছে ব্যালট পেপারে। ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ ছায়া মাড়িয়ে প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণদের চোখে-মুখে এখন বিজয়ের আভা আর আগামীর দায়বদ্ধতা।

সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোর দীর্ঘ সারিতে চোখে পড়ছে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। যেখানে বয়োজ্যেষ্ঠদের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাজারো তরুণ-তরুণী। এদের বিশাল একটি অংশ ‘ফার্স্ট টাইম ভোটার’। আবু সাঈদ আর মুগ্ধদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন পরিবেশে নিজেদের প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে তারা আবেগাপ্লুত।

নুসরাত জাহান ইমা

জাকসুর কর্যকরী সদস্য

জীবনে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পেরেছি। সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্তে, কারও ইনফ্লুয়েন্সে না। তাই এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। অনেক বেশি ভালো লাগা কাজ করছে।

এর পিছনে একমাত্র অবদান ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ হওয়া ভাই বোনদের এবং গণমানুষের। তাদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আজকের এই ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা আমরা ফিরে পেয়েছি। তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে এই দেশের মা মাটি ও মানুষ। শুধু যে ভোট দিয়েছি তা নয়, আশেপাশের মানুষকে উৎসাহিত করেছি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য। আওয়ামী আমলে যারা ভোট দিতে যায়নি এবং গতকাল যারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আজকে ভোটকেন্দ্রে যাবেনা, তারা অব্দি ভয় সংকোচ কাটিয়ে নির্বিঘেœ নিরাপদে ভোট দিয়ে আসতে পেরেছে।

আমার ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল। কোন অসুবিধা হয়নি। নিরাপত্তাও বেশ ভালো ছিল। তবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়নি। একটা নির্দিষ্ট দলের হামলা, সহিংসতা দেখে মর্মাহত লাগছে। ভোট জালিয়াতি কারচুপির ঘটনাও দেখতে পাচ্ছি যা পুরনো ফ্যাসিবাদের আমল কে মনে করিয়ে দেয়। নির্বাচনে পরাজয় যখন সুনিশ্চিত, তখন মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, অপপ্রচার এবং পেশিশক্তি দেখানোই তাদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। আমরা আর আগের মতো সহিংসতা দেখতে চাইনা।