টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করতে না পেরে ক্ষোভ থেকে প্রকল্পে ভিসির ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলেছে একটি মহল। এমন তথ্য জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর জাওয়াদুল হক। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার ডাটা শিট (টিডিএস) তারা শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর)-এর পরিপন্থী। বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে ‘স্পেসিফিক এক্সপেরিয়েন্স’ প্রাক্কলিত মূল্যের ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ রাখার বিধান থাকলেও তা ৫০ শতাংশের নিচে নামানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে তিনি জানান ।
সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রকল্পের ‘৯ শতাংশ ঘুষ’ চাওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভিসি প্রফেসর ডা. জাওয়াদুল হক। বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি নিজেই লিখিত বক্তব্য পাঠ করে অভিযোগের জবাব দেন। লিখিত বক্তব্যে ভিসি বলেন, গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে তাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জড়িয়ে ‘প্রকল্পের ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ’ সংক্রান্ত যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্রের চরিত্রহননের অপচেষ্টা। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, অভিযোগের কোনো সত্যতা বা নৈতিক ভিত্তি নেই। তিনি জানান, প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই দুটি প্রতিষ্ঠান অদ্যাবধি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণই করেনি। যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়নি, সেখানে তাদের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, নিয়মবহির্ভূত দাবি প্রত্যাখ্যান করায় গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, কল ও ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে তাকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হুমকি দেয়া হয়। এমনকি শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন উপাচার্য। এসবের ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কারিগরি ব্যাখ্যা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু রাখার নির্দেশনা দেয় বলে জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, প্রতিটি স্তরে ব্যর্থ হয়ে একটি মহল এখন সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে তাকে পদচ্যুত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভিসির পদে বসিয়ে নিজেদের ঠিকাদারকে অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দেয়া যায়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপাচার্য দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্প স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কোনো হুমকি বা অপপ্রচারে প্রশাসন নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না। তিনি অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনের পর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।