নানা, নানী ও খালার কবর জিয়ারত
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর অফিস : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের উপকার করা এবং তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির মূল লক্ষ্য। গতকাল সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করে সমাবেশে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবেÑএই বিশ্বাস থেকেই কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও দিনাজপুর জেলা বিএনপি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত এলাকাবাসী, দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি দল, যে দল মানুষের উপকার হবেÑএমন কাজ করার চেষ্টা করে। সেই লক্ষ্য থেকেই সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন শেষ হলে এলাকার প্রায় ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি এই সেচ ব্যবস্থার আওতায় আসবে এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে এই খালের পানির সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।
তারেক রহমান বলেন, খালটি চালু হলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের বেশির ভাগই গ্রামে বাস করে এবং তাদের প্রধান পেশা কৃষি। তাই কৃষিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো জরুরি। কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষও ভালো থাকবে। এ কারণে সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার কথা বলা হয়েছিল এবং সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খাল খননের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের অনেক খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার সময় পানি ধরে রাখা যায় না। ফলে একদিকে বন্যার সময় হঠাৎ করে উজান থেকে আসা পানি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়। খাল খননের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং তা কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাবে।
তিনি জানান, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে বড় পরিসরে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পানি সংরক্ষণ, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়। খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, সাহাপাড়ার খালের পাড়ে প্রায় সাত হাজার গাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য খালের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হবে, যাতে এলাকার মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে অনেক এলাকায় খাল ও নদীতে পানি না থাকায় কৃষকদের গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে হয়। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই মাটির ওপরে থাকা পানিকে সংরক্ষণ করা এবং পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা জরুরি।
কৃষকদের সহায়তায় নতুন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ছোট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাবেন। শিগগিরই এর পাইলট প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের চার কোটি পরিবারের মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশের সব এলাকার মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তারেক রহমান। এ বিষয়ে কৃষি প্রক্রিয়াজাত বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ঈদের পর তাদের নিয়ে বৈঠক করে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়সহ এ এলাকায় কৃষি-নির্ভর মিল ও শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এতে স্থানীয় তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান বলেন, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমান উন্নত করা। তিনি বলেন, মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় করা মানুষের আয় যেন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে যায়Ñএমন নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বিএনপির রাজনীতির লক্ষ্য। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কৃষকের বন্ধু ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও কৃষকের পাশে থাকতে চায়।
দেশের উন্নয়নে জনগণের সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণই দেশের মালিক এবং জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করা সম্ভব নয়। তাই দেশ গড়ার এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশ গড়ার একটি নতুন উদ্যোগের সূচনা হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে মানুষ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। দিনাজপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের কাজ সম্পন্ন হলে আবারও এলাকাটি পরিদর্শনে আসবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী এবং এই কর্মসূচি সফল করতে এলাকাবাসীকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, সাদিক রিয়াজ চৌধুরী ও সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।
এদিন কোদাল দিয়ে নিজ হাতে মাটি কেটে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হলো। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৩টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এ কর্মসূচি শুরু করেছেন। জিয়াউর রহমান তাঁর শাসনামলে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন এবং সেচব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান উদ্যোগকে সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আমাদের দিনাজপুর অফিস জানায় : দেশজুড়ে ৪ কোটি পরিবারের গৃহিণীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার কার্ড বিতরণ শেষ হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব মা-বোনেরা এই সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের জন্য আসছে কৃষক কার্ড, যা দিয়ে তারা সরকারি সব সাহায্য সরাসরি ভোগ করতে পারবেন। কেবল কৃষি নয়, উত্তরবঙ্গের বেকারত্ব ঘুচাতে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা বা মিল ইন্ডাস্ট্রি গড়ার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ঈদের পরেই বড় বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বসে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়সহ পুরো রংপুর বিভাগে ইপিজেড ও নতুন ইন্ডাস্ট্রি গড়ার কাজ শুরু হবে। উপস্থিত বিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদাত্ত কণ্ঠে বলেন, এই দেশের মালিক কোনো ব্যক্তি বা পরিবার নয়, বরং এই দেশের মালিক হচ্ছেন আপনারা (জনগণ)। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেকেই মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, কিন্তু কাজ দিয়ে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, বিদেশীরা যদি তাদের দেশ গড়তে পারে, আমরা কেন পারবো না? সবশেষে, ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খালটির কাজ শেষ হলে তা আবারও নিজ চোখে দেখতে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুর-৪ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৩ আসনের এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-১ আসনের এমপি মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক প্রমুখ।
এরপর দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্থানে প্রধানমন্ত্রীর মরহুম নানা ইস্কান্দার মজুমদার, নানী তৈয়বা মজুমদার এবং বড় খালা প্রয়াত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মরহুমা খুরশীদ জাহান হকের কবর জিয়ারত করেন। বিকালে জেলা বিএনপি আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন।
এদিন বিকেলে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে ভিক্ষুকদের মাঝে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনাজপুর সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির’ আওতায় ভিক্ষুকদের মাঝে ২০টি ছাগল বিতরণ করেন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো: দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সব ধরনের হিসাব-নিকাশ করেই সরকার এই বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং পরিকল্পিতভাবে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার মলিয়াইশ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলধারা খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) মীরসরাই উপজেলার বামনসুন্দর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (সেচ) মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার, প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মীরসরাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
গৌরনদীতে খাল খনন
গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা : তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী, জহির উদ্দিন স্বপন এমপি খাল খনন উদ্বোধন কালে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া পাঁচটি কাজ ভোটারদের ভোটের কালি শুকানোর আগেই শুরু করতে পেরেছি তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমামদের ভাতা, কৃষি ঋণ মওকু, আজকের খাল খননের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা ১১টায় উপজেলার, নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর স্বনির্ভর খাল খনন উদ্বোধন শেষে, এস পি এসডিপি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইব্রাহিম এর সঞ্চালনায় বরিশাল জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার, এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান, বিএডিসি বরিশাল সার্কেল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চঞ্চল কুমার মিস্ত্রি, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, গৌরনদী বিএডিসি উপ সহকারী প্রকৌশলী সাহেদ আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।
মন্ত্রী আরো বলেন আমরা জনগণের কাছে যে ওয়াদা করেছি তা বাস্তবায়ন করতে চাই আমাদের সরকার জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে চায়।
উল্লেখ্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৪৫ বছর পূর্বে কৃষি উন্নয়নে গৌরনদীর কুতুবপুর স্বনির্ভর খাল নিজ হাতে খনন করেন। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী খাল খনন ও পূর্ণ খনন কর্মসূচি আওতায় এ খাল খনন শুরু হয়েছে। কুতুবপুর স্বনির্ভর খালটি দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার প্রথম পর্যায়ে ২ কিলোমিটার অংশে কাজ শুরু হয়েছে, পর্যায়ক্রমে বাকি এলাকা খনন কাজ হবে। খালটি পূর্ণ খনন সম্পন্ন হলে ওই এলাকার প্রায় ৯ শত একর কৃষি জমি শেষ ও পানি নিষ্কাশন সুবিধা আসবে ফলে কৃষি শেচ প্রকল্পের আওতায় বিপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করেন বিএডিসি কর্মকর্তাগণ।
নড়াইল সংবাদদাতা : সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষকদের কল্যাণে সর্বপ্রথম খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এই উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য সারা দেশের হারিয়ে যাওয়া খাল এবং নদী পুনরুদ্ধার ও খনন করা, যা কৃষি ও মৎস্য সম্পদের জন্য উপকারী হবে। খাল খনন কর্মসূচি কৃষি ও সেচ কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।
সোমবার বেলা ৩টায় নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের হাতিয়াড়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ^াস জাহাঙ্গীর আলম ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু। এ সময় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বি.এম. আব্দুল মোমিন, নড়াইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আল মামুন শিকদার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি-জেনারেল) মো: আহসান মাহমুদ রাসেল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি.এম. রাহসিন কবির, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজীৎ কুমার সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। খাল খনন উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ খালের পাড়ে বনজ, ফলজ ও ওষধি গাছের চারা রোপন করেন।
মানিকগঞ্জে খাল খনন উদ্বোধন
হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার তালুক হাপানিয়া খাল খননের উদ্বোধন ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পরিদর্দশ করেছেন বেসরকরী বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলধারা খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে এ খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি আফরোজা খানমৃতা বলেন, তালুক হাপানিয়া খালটিতে দীর্ঘদিন ধরে পলি জমার ফলে খালটি পানিপ্রবাহের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। ফলে খালটির আশপাশের এলাকার কৃষিজমিতে সেচের জন্য কৃষকদের ইঞ্জিনচালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হতো। দীর্ঘবছর গতহলে খালটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে খালটি খননের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। খালটি পানিপ্রবাহের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকার হাজারো কৃষক এর সুফল থেকে বঞ্চিত হন।
চুনারুঘাটে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা : দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বুচিনালা খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের বুচিনালা খাল এলাকায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কাজের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ।