ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা-য় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের টাস্কফোর্স। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধ উত্তোলনে ব্যবহৃত একাধিক নৌযান ও ভারী যন্ত্রপাতি ধ্বংস করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

অভিযান ও জব্দকৃত সরঞ্জাম অভিযান সূত্রে জানা যায়, নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে একযোগে অভিযান চালিয়ে অবৈধ পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ১১টি নৌকা, ৬টি স্যালো মেশিন এবং ৫টি সিক্স-সিলিন্ডার মেশিন ঘটনাস্থলেই সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া নদীতীর থেকে ৪টি নোঙ্গর, ২টি কোদাল, ১টি বেলচা এবং ৭টি লোহার টুকরি জব্দ করা হয়েছে।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীররক্ষা বাঁধ এবং আশপাশের পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছিল। একই সঙ্গে সরকার বিপুল রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছিল।

প্রশাসনের অবস্থান অভিযান পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ইমরানুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রওশন কবির, ডিমলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ রেজা, বানির্ঘাট বিওপির সুবেদার মোঃ সাইফুজ্জামানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, “তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। নদীর পরিবেশ, জনস্বার্থ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ চক্রের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে। তারা নদী রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

প্রেক্ষাপট উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদী তিস্তা নদী দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের শিকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত উত্তোলনের ফলে নদীর নাব্যতা, সেতু ও বাঁধের স্থায়িত্ব এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। এ অবস্থায় প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানকে নদী রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।