জুলাই বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকীতে যশোর সংস্কৃতি সংসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকাল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে যশোর সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে ‘জুলাই বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকী’ উপলক্ষে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের কন্ট্রোলার প্রফেসর ড. মো: আব্দুল মতিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, বিশিষ্ট আইনজীবী, কবি ও সাহিত্যিক অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর সংস্কৃতি সংসদের প্রধান উপদেষ্টা খন্দকার রাশিদুজ্জামান রতন এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবুল হাশেম রেজা, আবু ফয়সাল, গাউসুল আজম, জুবায়ের হোসাইন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন যশোর সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি তরিকুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় প্রধান অথিতি প্রফেসর ড. মো: আব্দুল মতিন তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল ছাত্র-জনতার ন্যায়ের সংগ্রাম। এ আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস খুঁজে পেয়েছে। এটি কেবল একটি আন্দোলন নয়, বরং মুক্তচিন্তা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি মাইলফলক। তিনি ছাত্র-জনতার ত্যাগ ও সংগ্রামী চেতনা স্মরণ করে আগামী প্রজন্মকে গণমানুষের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই বিপ্লব গণতন্ত্র ও স্বাধীন মত প্রকাশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তরুণ সমাজের এই জাগরণ ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আলোকিত করবে। আমাদের প্রত্যেককে এই বিপ্লব থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেম ও সততার পথে চলতে হবে।

অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ইতিহাসকে জানার মাধ্যমেই জাতি এগিয়ে যায়। জুলাই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা কতটা জরুরি। ছাত্র ও জনতার এই আন্দোলন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

খন্দকার রাশিদুজ্জামান রতন বলেন, জুলাই বিপ্লব শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি ছিল সাংস্কৃতিক চেতনারও পুনর্জাগরণ। সংস্কৃতি ও সাহিত্য সমাজকে জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই জুলাই বিপ্লবের বার্তা প্রতিটি ঘরে-ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।

সভাপতি তরিকুল ইসলাম সমাপনী বক্তব্যে বলেন, আমরা চাই জুলাই বিপ্লবের চেতনা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে যাক। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে এই বিপ্লবের শিক্ষা ধারণ করাই হবে আমাদের বড় শক্তি। সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। বক্তারা সর্বসম্মতিক্রমে ঘোষণা দেন, প্রতিবছর জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকী পালন করে এই আন্দোলনের চেতনা জীবিত রাখা হবে।