মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কৃষি জমির টপ সয়েল বা উর্বর মাটি এস্কেভেটর মেশিন (খননকারী যন্ত্র) দিয়ে কেটে নিচ্ছেন ইটভাটা মালিকরা। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে টপসয়েরে মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। এতে শত শত একর কৃষি জমি ফসল উৎপাদনের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সরেজমিন উপজেলার বহুরিয়া ,উয়ার্শী ,আজগানা, গোড়াই ,আনাইতারা, ভাদগ্রাম, মহড়ো, লতিপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়- খননকারী যন্ত্র দিয়ে ফসলী জমির সাত-আট ফুট পর্যন্ত মাটি তুলে ট্রাক ভর্তি করে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। দৈর্ঘ-প্রস্থ সমান প্রতি ১ শতক জমির উপরের এক ফুট মাটি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। তাতে ৮ ফুট মাটি নিলে জমির মালিক পাচ্ছেন ১৬ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন বলেন, জমির উপরিভাগের ৬-৮ ইঞ্চি চাষাবাদের জন্য কার্যকরী। কিš‘ ওই অংশ কেটে ফেলা হলে জমি চাষাবাদের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যা পূরণ হতে সময় লাগে একবছর। সেজন্য টপসয়েল বিক্রি জমির মালিকের জন্যই ক্ষতিকর। টপসয়েল যেন বিক্রি না করে সে ব্যাপারে চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০১৩, সংশোধিত ২০১৯- আইন অনুযায়ী ইটভাটার এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যদি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, আবাসিক এলাকা বা কৃষিজমি থাকে তাহলে সেখানে ভাটা স্থাপন করা যাবে না। কিন্ত আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে ভাটা মালিকরা ইট তৈরি অব্যাহত রেখেছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মির্জাপুর উপজেলায় ১১১ টি ইটভাটার মধ্যে ৬৬ টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। ৬৬ অবৈধ ভাটা মালিককে ভাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিš‘ তারা ওই আদেশ না মেনে ইট উৎপাদন চালিয়ে যেতে থাকে।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক বলেন, পরিবেশের ছাড়পত্র না নিলে আমরা ইট তৈরির অনুমতি দিচ্ছি না। তবে অনেকেই আইন না মেনে ভাটা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করছি। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি ভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানের কয়েক দিন পরে জানতে পারি বন্ধ করে দেয়া ভাটা পুনরায় সচল করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, পরিবেশের ছাড়পত্র না নিয়ে যারা ইটভাটা চালাচ্ছে তাদের জরিমানা করা অব্যাহত রয়েছে। কিš‘ সমস্যা হলো কোনো ইটভাটায় আইন মেনে ইট পোড়াচ্ছে না। এতে পরিবেশে, জীবি বৈচিত্র্য ও কৃষি জমির ক্ষতি হচ্ছে। ইটভাটা মালিকদের চিঠির মাধ্যমে ভাটায় কোন প্রকার জ্বালানি কাঠ ও ফসলি জমির উর্বর মাটি ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। যদি কোন ভাটায় ফসলি জমির উর্বর ্র মাটি ব্যবহার করা হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।