গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কর্ণপুর জামিয়া হামিদিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে জ্ঞান বিতরণ, মানবিক মূল্যবোধ গঠন এবং প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার নীরব কারিগর ছিলেন শিক্ষক মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী মাস্টার। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে টানা ৪১ বছর (১৯৮৫–২০২৬) নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন শেষে তাঁর সম্মানে আয়োজন করা হয় এক আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা।

বুধবার (১ জুলাই) বাদ মাগরিবে মাদ্রাসার মিলনায়তনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদায়ের মুহূর্তে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন যেন পরিণত হয় স্মৃতিচারণ আর আবেগের এক মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ ই. জেড. এম. মাসুদুর রহমান শিমুল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আশেকে মুস্তফা (দা.বা.), মুহতামিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা কাজী মুঈনুদ্দীন আহমেদ (দা.বা.), মুহতামিম।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, গোসিংগা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুমন প্রধান, সাংবাদিক মুনসুরুল ইসলাম মাসুমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, অভিভাবক এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী মাস্টার কেবল একজন শিক্ষক নন; তিনি ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম ভিত্তি। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা ও আত্মনিবেদনের মাধ্যমে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাঁর হাত ধরে অনেক শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে শিক্ষা, সমাজ ও ধর্মীয় অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

প্রতিষ্ঠান গঠন, শিক্ষা বিস্তার এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষ্য, একজন আদর্শ শিক্ষকের অবসর হতে পারে, কিন্তু তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও কর্ম কখনো অবসর নেয় না। ইয়াকুব আলী মাস্টারের রেখে যাওয়া আদর্শ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানের শেষে বিদায়ী শিক্ষক মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী মাস্টারের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও নেক হায়াত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৪১ বছরের প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে উপস্থিত অনেকের চোখে অশ্রু ঝরে, আর মিলনায়তনজুড়ে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষককে সম্মান জানিয়ে আয়োজিত এ বিদায় সংবর্ধনা উপস্থিত সবার হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।