জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিন দিনে বগুড়ায় তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব খুনের ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় জনগণ ফুঁসে উঠছে। অজানা আতংক বিরাজ করছে সবার মনে। এতগুলো খুনের ঘটনার পর এখনো কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। অধরা রয়ে গেছে ঘাতকেরা, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। সবশেষ গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ী পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির অদূরেই পাওয়া যায় পরিবহন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের গলাকাটা লাশ। বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছেও তিনি আর ঘরে ফিরতে পারেননি। সাইফুলের মেয়ে সাদিয়া আক্তার কান্নাসিক্ত কণ্ঠে বলেন, বাবা প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাড়ি ফিরবেন, আমরা সেই অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু বাবা ফিরলেন লাশ হয়ে। প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, শান্ত স্বভাবের সাইফুলের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল বলে তাদের জানা নেই। কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো, সেই রহস্য এখনো কাটেনি। এর আগে গত শনিবার শহরের মাটিডালী এলাকায় এক ছাত্রদল নেতাকে প্রাণ দিতে হয়েছে পারিবারিক বিরোধের জেরে। বোনকে বিয়ে না দেওয়ার জেরে ছুরিকাঘাতে খুন হন ফাহিম হাসান। অন্যদিকে, নিশিন্দারা এলাকায় বাবার গ্যারেজ থেকেই উদ্ধার করা হয় ১৬ বছর বয়সী কিশোর আলিফের রক্তাক্ত দেহ। একের পর এক এসব রক্তক্ষয়ী ঘটনায় শহরজুড়ে এখন কেবলই চাপা আতঙ্ক।
খুন ছাড়াও গত কয়েক দিনে জেলাটিতে বেড়েছে সন্ত্রাসী হামলা। সেউজগাড়ী এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় সুনীল নামের এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে জীবনের সঙ্গে লড়ছেন। এই হামলার প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার শহরের সাতমাথায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবিলম্বে সব খুনিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
অপরাধের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে চিন্তিত সচেতন মহলও। সরকারি আজিজুল হক কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোস্তফা কামাল বলেন, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং শাস্তির নিশ্চয়তার অভাবেই এমন অপরাধ বাড়ছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা গেলে এসব ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘটনার পেছনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তিনি বলেন, তদন্তে অগ্রগতি আছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পুলিশের আশ্বাসের পরও বগুড়ার সাধারণ মানুষের মনে শান্তি নেই। ঘাতকেরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত এই উদ্বেগ কাটবে না বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।